,

শিরোনাম

উলিপুরে চালুর অপেক্ষায় ছয় বছর,কৃষিপন্য প্রক্রিয়াজাতকরন কেন্দ্র

খালেক পারভেজ লালু, উলিপুর (কুড়িগ্রাম): ছয় কোটি টাকায় নির্মিত কৃষিপন্য প্রক্রিয়াজাতকরন,সংরক্ষন ও বাজারজাতকরন উলিপুর কেন্দ্রটি নির্মানের ৬ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। চালু হওয়ার আগেই পড়ে থেকে মেশিন পত্র নষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। কবে নাগাদ কেন্দ্রটি চালু হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি। জনবল সংকট ও নীতিমালা জটিলতায় অনিশ্চিয়তায় পড়েছে সরকারী প্রতিষ্টানটি চালুকরনে। ফলে পুরো প্রকল্পের অর্থ জলে পড়ার উপক্রম হয়েছে। কেন্দ্রটি চালু না হওয়ায় প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের উৎপাদিত কৃষি পন্য সংরক্ষন ও বাজারজাতকরন করা যাচ্ছে না। ফলে সংরক্ষনের অভাবে পচে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার কৃষি পন্য।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার প্রান্তিক জনগোষ্টির দারিদ্রতা হ্রাসকরন শীর্ষক প্রকল্পর আওতায় ২০১৮ সালে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ) বগুড়া। কুড়িগ্রাম জেলায় ৪টি ও জামালপুর জেলায় ৪টি উপজেলায় কৃষিপন্য প্রক্রিয়াজাতকরন, সংরক্ষন ও বাজারজাতকরন কেন্দ্র নির্মানের উদ্দ্যোগ নেয়। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের আর্থিক সহায়তায় কেন্দ্র গুলো নির্মান করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্র প্রায় ছয় কোটী টাকা ব্যায়ে ২০২২/২৩ সালে নির্মান কাজ শেষ করে মেশিন পত্র বসিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান সংশ্লিষ্ট আরডিএর কাছে হস্তান্তর করে। কিন্ত জনবল সংকটের কারনে এখন পর্যন্ত কেন্দ্র গুলো চালু করতে পারেনি আরডিএ। সেই থেকে উদ্দ্যোগ বিহীন অবস্থায় অযন্তে অবহেলায় পড়ে থেকে মেশিন গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছেন জনবল সংকটের কারনে যেহেতু কেন্দ্র গুলো চালু করা যাচ্ছে না।

সেহেতু নীতিমালা পরিবর্ত্তন করে সমবায় ভিত্তিক সমিতি,এনজিও অথবা আগ্রহী ব্যক্তি উদ্দ্যোগতাকে ৩বছর মেয়াদে লীজ দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানান। কেন্দ্র গুলোতে ধান, গম,তেল ভাঙ্গা, মসলা, চিপস, বেকারী,দুধ, মাছ, মাংস সংরক্ষনে পলিং চেম্বার,সহ কৃষিপন্য সংরক্ষন,বাজারজাত ও প্রক্রিয়াজাতকরনের ব্যবস্থা রয়েছে। কেন্দ্রটি চালু হলে ২০জন মানুষের কর্ম সংস্থান হবে।শুরুতে এ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রান্তিক জনগোষ্টির দারিদ্রতা হ্রাসকরনে লক্ষে প্রতি ওয়ার্ডে ৩৫টি করে দরিদ্র পরিবারকে ১টি করে বকনা গরু প্রদান করার কথা থাকলেও তালিকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ জটিলতায় মাত্র ৫টি ওয়ার্ডে ১৭৫টি গরু প্রদান করা হয়। বাকী ৯টি ওয়ার্ডে গরু প্রদান করা হয় নাই।

ফলে বরাদ্ধের ২৮ কোটি টাকা ফেরত গেছে বলে আরডিএ জানায়।  রামদাস ধনিরাম গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন কেন্দ্রটি চালু হলে এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের কৃষিপন্য সংরক্ষনসহ নানা মুখি সুবিধা পাবে। কোন কৃষিপন্য নষ্ট হবে না। তিনি কেন্দ্রটি দ্রুত  চালুর দাবী জানান। কেন্দ্রের পাহারাদারি মোঃ মাসুদ রানা ও রাসেল মিয়া বলেন,আমাদের পাহারা দেয়া দায়িত্ব। এর বাইরে কোন কিছু করার নাই। তবে কিছু জিনিষ চুরি যাওয়ার কথা স্বীকার করেন তারা।  উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো.হাবিবুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। প্রকল্প সম্পর্কে অবগত নন।

তবে বিষয়টির খোজ খবর নিবেন বলে জানান তিনি।  মো. জাহেদুল হক চৌধুরী পরিচালক,পল্লী উন্নয়ন একাডেমী রংপুর বলেন, একাডেমীর আগের নীতিমালা অনুযায়ী কেন্দ্র গুলো নিজস্ব জনবল দিয়ে পরিচালনা করার কথা। কিন্ত জনবল সংকটের কারনে কেন্দ্র গুলো চালু করা যাচ্ছে না বিধায় কেন্দ্র গুলো অঢ়ালু অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শুধু পাহারাদার দিয়ে রাখা হয়েছে। তবে নীতিমালা পরিবর্ত্তন করে টেন্ডারের মাধ্যমে লীজ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে কবে নাগাদ চালু হবে সে ব্যাপারে কিছু বলতে নারাজ তিনি।উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা ও উপজেলা কমিটির সভাপতি এটিএম আরিফ বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার  যোগাযোগ করেনি। এ মাত্র জানলাম । বিষয়টির খোজ নিয়ে কেন্দ্রটি চালু করনের ব্যবস্থা নিব।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়