
সংবাদের আলো ডেস্ক: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার শালমারা গ্রামের ১০ বছর বয়সী শিশু নাজমুল এখনও জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। দুরারোগ্য মোটর নিউরন ডিজিজে (এমএনডি) আক্রান্ত হয়ে একসময় কোমর থেকে নিচের অংশ প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল তার। দৌড়ে বেড়ানো শিশুটি হয়ে পড়েছিল বিছানাবন্দি।
তবে চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে নাজমুলের পরিবার। তার পা আবারও কিছুটা কাজ করতে শুরু করেছে। চিকিৎসায় এমন ইতিবাচক পরিবর্তনে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন মা নাজমা বেগম। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত ও যথাসময়ে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারলে নাজমুলের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নাজমুলের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে শুধুমাত্র জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম ‘সময়ের কণ্ঠস্বরে’ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
সর্বশেষ গত ২৮ জুন ২০২৬ নাজমুলকে চিকিৎসার জন্য ভারতের তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো চাইল্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২৯ জুন হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক মহেশ নারায়ণ তাকে ছয়টি ইনজেকশন দেন। পরে জেনেটিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কাতিরভেন এমকের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নাজমুলের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ৯৫ শতাংশ বলে আশার কথা জানানো হয়।
তবে এই আশার আলো ধরে রাখতে চিকিৎসা বন্ধ করা যাবে না। চিকিৎসার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হলে নাজমুলের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে পরিবারের আশঙ্কা।
এরই মধ্যেএচন্নাই অ্যাপোলো চাইল্ড হাসপাতাল থেকে মেইল পাঠিয়ে বলা হয়েছে আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এ আবারও তাকে চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে যেতে হবে।
এ জন্য ভিসা সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং ভারত থেকে জরুরি ওষুধ আনার জন্য আপাতত প্রয়োজন ১ লাখ টাকা।
তবে পরবর্তী চিকিৎসা ও দুটি ব্যয়বহুল ইনজেকশনসহ নাজমুলের চিকিৎসার জন্য মোট প্রয়োজন হবে প্রায় ৫ লাখ টাকা।
ভারতীয় ভিসার স্লট পাওয়া ও ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগায় এখনই অর্থ সংগ্রহ ও প্রস্তুতি শুরু করা জরুরি। তাই নাজমুলের চিকিৎসা যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে জন্য সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও হৃদয়বান মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তার মা নাজমা বেগম।
নাজমুলের পরিবারের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। তার মা মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। ছেলের অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজ করাও সম্ভব হয় না। ফলে সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
নাজমুলের মা নাজমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেটাকে বাঁচাতে আপনারা সবাই একটু সাহায্য করুন। ও বাঁচলে আমিও বাঁচব। আমার বুকের ধন মরে গেলে আমি বেঁচে থেকে কী করব?’
একসময় যে শিশু হাঁটাচলার শক্তি হারিয়ে বিছানায় পড়ে ছিল, চিকিৎসায় সেই শিশুর পা আবার নড়াচড়া শুরু করেছে। এখন তার চোখে নতুন করে সুস্থ জীবনের স্বপ্ন। নাজমুলের ইচ্ছা, সুস্থ হয়ে আবারও মাদ্রাসায় পড়বে এবং পবিত্র কোরআনের হাফেজ হবে।
একটি শিশুর জীবনে ফিরে আসা আশার আলো যেন অর্থের অভাবে নিভে না যায়। নাজমুলের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও হৃদয়বান মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তার মা।
সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা: বিকাশ/নগদ (পার্সোনাল): 01759262343
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: 20507770231597486, অ্যাকাউন্টের নাম: নাজমা বেগম, ব্যাংক: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, শাখা: কুড়িগ্রাম।
ভিডিও কলে নাজমুলকে দেখতে চাইলে: 01713200091 (হোয়াটসঅ্যাপ)।
সূত্র: সময়ের কন্ঠস্বর
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.