
খাইরুল ইসলাম, কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় রোহিঙ্গা নারী রোকেয়া বেগমকে নাগরিক ও চারিত্রিক সনদ দেওয়ার ঘটনায় ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলীকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. বিপাশা হোসাইন।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব বিষ্ণুপদ পাল স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার ১নং ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ (১নং ওয়ার্ড) মোঃ লিয়াকত আলী কর্তৃক মোছাঃ রোকেয়া বেগম বাংলাদেশের নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও তাকে নাগরিকত্ব সনদ প্রদান করায় এর আগে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং একই তারিখে আত্মপক্ষের সুযোগ দিয়ে কারণ দর্শানো হয়। মোঃ লিয়াকত আলী কর্তৃক দাখিলকৃত জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় প্যানেল চেয়ারম্যান-১ (১নং ওয়ার্ড) মোঃ লিয়াকত আলীকে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ধারা ৩৪ (৪) এর (খ) ও (ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করায় একই আইনের ৩৪ (৬) ধারা মোতাবেক তাকে স্বীয় পদ হতে অপসারণ করা হলো।
কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. বিপাশা হোসাইন জানান, উচ্চ আদালত থেকে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ লিয়াকত আলীর পদ বহালের জন্য পুনরায় চার মাস সময় বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে রোকেয়া বেগম ও তাঁর স্বামী মো. আনিছ ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে এনআইডি করতে গেলে কামারখন্দের নির্বাচন কর্মকর্তার সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা কক্সবাজারের উখিয়া টেংখালী ক্যাম্প-১২, জি-৪ ব্লকের রোহিঙ্গা শরণার্থী বলে স্বীকার করেন। আর ওই দিন বিকেলেই কামারখন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদ রানা বাদী হয়ে কামারখন্দ থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ রোকেয়া ও তাঁর স্বামী আনিছকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.