
সংবাদের আলো ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা উঠে আসেনি। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সংকট ও জনগণের প্রত্যাশার বিষয়গুলোও তিনি যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারেননি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দলের কার্যালয়ে বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সফর করলেন এবং দেশে ফিরে এলেন। জাতিসংঘে সেখানে একটি বক্তৃতা দিয়েছেন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে নির্বাচিত সরকার আসার পরে এটি আন্তর্জাতিকমণ্ডলে, আন্তর্জাতিক বিশ্বমঞ্চে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা দেশের চাওয়া পাওয়া প্রত্যাশা তুলে ধরার প্রথম একটি সুযোগ বা প্লাটফর্ম ছিল জাতিসংঘের অধিবেশন।
‘কিন্তু জাতিসংঘে যে বক্তব্য তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দিয়েছেন আমরা মনে করি যে, জনগণের প্রত্যাশা সেখানে উঠে আসেনি, জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা উঠে আসেনি। সেখানে তিনি তার দলীয় যে ইশতেহার যে অ্যাজেন্ডা, ফ্যামিলি কার্ড এই ধরনের অনেক কিছু বলেছেন। যেটা অলরেডি এই প্রকল্পগুলো দেশে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দারিদ্র্য, দুর্বলদের কথা ছিল, কর্মসংস্থানের কথা ছিল। এগুলো কিছুই হয়নি। ফ্যামিলি কার্ডের নামে হরিলুট হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের নামে দলীয় লোকরা ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছে। যত ধরনের কার্ড হয়েছে এগুলো সব দলীয় কার্ডের পরিণত হয়েছে।’
তিনি বলেন, আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় ছিল। এটা নিয়ে আমরা দেশে সমালোচনা করি। কিন্তু এটা বিশ্বমঞ্চে বলার কিছু নেই। আমাদের বিশ্বমঞ্চে বলার যে বিষয়গুলো ছিল উনি একটাও ঠিকমত অ্যাড্রেস করেননি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে জ্বালানি সংকট চলছে। এটার জন্য ওনারাই বলেন যে মধ্যপাচ্যের সংকট বা যুদ্ধটা দায়ী। আমরা জ্বালানি পাচ্ছি না। একটা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের যে সাফার করতে হচ্ছে। তাহলে সেই বিষয়টা উনি ঠিকমত তুলে ধরেননি। সেখান থেকে বাংলাদেশ কীভাবে পরিত্রাণ পেতে পারে, আন্তর্জাতিক মহল যাতে এটাতে উদ্যোগ নেয়। যাতে জাহাজগুলো আসতে পারে, বাংলাদেশ যাতে জ্বালানি পায়, সে বিষয়ে উনি কিন্তু আন্তর্জাতিকমণ্ডলের সবার সামনে তুলে ধরতে পারতেন।
তিনি আরো বলেন, ভারতে গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। যেখান থেকে শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের যারা নেতাকর্মী সেখানে যাদের অবস্থান রয়েছে, তারা সেখানে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেখানে প্রেস বিফ্রিং করছে। দিল্লি সরকার এটা হতে দিচ্ছে। সেই বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিন্তু তিনি বিশ্বমঞ্চে বলতে পারতেন। দিল্লির যে আগ্রাসী রূপ এবং বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা, বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং বিচার ব্যবস্থাকে যে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন ভারত সরকার সে বিষয়ে কিন্তু তিনি বলতে পারতেন, তিনি বলেননি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দেশে যে অর্থনৈতিক সংকট চলমান সে বিষয়েও আমরা বিশ্ববাসীকে কীভাবে সহযোগিতা পাবো সেটি উনি তুলে ধরতে পারেননি। ফলে এই জাতিসংঘের সফর থেকে আমাদের কি অর্জন হল, সেটা জনগণের কাছে উনি স্পষ্ট বার্তা নেই।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.