
আখতার হোসেন খান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে একজন সাংবাদিকের অপর একজন সাংবাদিক পর্নগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন।
এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে মো. হাদি চকদার (৩৩) নামে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে টাঙ্গাইল প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্ত হাদি চকদার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এস-এর ভূঞাপুর উপজেলা প্রতিনিধি এবং ভূঞাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক।
সোমবার (২৩ জুন) টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন দৈনিক টাঙ্গাইল প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক ও ভূঞাপুর উপজেলার কাগমারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী শফিকুল ইসলাম ভূঞা দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক টাঙ্গাইল প্রতিদিন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ভূঞাপুর উপজেলার বীরহাটি গ্রামের বাসিন্দা অভিযুক্ত হাদি চকদার তার ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ খুলে দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে তিনি ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৬ জুন দুপুর আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিটে বাদীর ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ‘Hady Chakder’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার বিকৃত ও আপত্তিকর ছবি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়ার তথ্য আসে। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি একই আইডি থেকে ছবিগুলো প্রচার হওয়ার বিষয়টি তাকে জানান।
বাদীর দাবি, তার ছবি বিকৃত করে অশ্লীল ও আপত্তিকরভাবে প্রচার করায় তিনি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১), ৮(২) ও ৮(৩) ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিষয়ে বাদী শফিকুল ইসলাম ভূঞা বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আদালত মামলা আমলে নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আশাকরি ন্যায়বিচার পাবো।
অভিযুক্ত সাংবাদিক হাদি চকদার বলেন, 'একজন ক্ষুদ্র সংবাদকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সত্য প্রকাশের কারণে অতীতেও আমাকে মামলা মোকাবিলা করতে হয়েছে। এবারও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আদালতে বিষয়টি মোকাবিলা করব। আমার প্রকাশিত তথ্য ও ব্যবহৃত ছবি সম্পর্কে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তার সত্যতা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সবকিছু স্পষ্ট হবে। কোনো ধরনের ভয়-ভীতি বা হয়রানি আমাকে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখতে পারবে না।'
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.