
সংবাদের আলো ডেস্ক: দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার ও ব্যাংকিং খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক মালিক ও নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর সভাপতি আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমরা যখন গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছি, তখন দুর্ভাগ্যক্রমে ক্ষমতাশালীদের সহায়তায় দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ হাজার কোটি টাকা দেশের বাহিরে পাচার হয়ে গেছে। এর ফলে ব্যাংকিং খাত দুর্বল অবস্থায় পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আন্তরিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গোয়েন্দা বাহিনী ব্যবহার করে ব্যাংক দখল এবং জোরপূর্বক শেয়ার লিখে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সময়ে ব্যাংকে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ উদ্যোগ অনিয়ম বন্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এ সময় ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অর্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাত এবং মানবকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি নতুন ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সুবিধা বাড়ানো এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পসহ উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে বিএবির নেতৃবৃন্দ বলেন, ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর অর্থ পাচার ও খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা দিতে না পারা তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলেও জানান তারা।
তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও মোট অর্থের একটি বড় অংশ এখনো ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে লেনদেন হয়। এ কারণে ডিজিটাল অর্থনীতি ও কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
সাক্ষাৎকালে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ২৬টি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.