
সংবাদের আলো ডেস্ক: ইউক্রেনজুড়ে বেসামরিক অবকাঠামোতে রাশিয়ার হামলায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন রাজধানী কিয়েভে প্রাণ হারিয়েছেন। চলতি মাসে কিয়েভে দিন-রাত ড্রোন হামলার তীব্রতা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে বাধ্য হচ্ছে।
এমন এক সময়ে এই হামলাগুলো চালানো হলো যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘে তিনি রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঝড় থেকে সুরক্ষায় আরও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য পুনরায় আবেদন জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কিয়েভের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাধিক পেট্রোল পাম্প, অফিস, একটি কলেজ ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং রেল নেটওয়ার্কে আঘাত হানা এই হামলায় ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে হামলায় প্রায় এক লাখ গ্রাহকের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা রাশিয়াকে তথ্যের প্রবাহ ব্যাহত করতে ডেটা সেন্টারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং রামিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকি থেকে বেসামরিক মানুষের তথ্য পাওয়ার সুযোগ বাধাগ্রস্ত করে জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলার জন্য অভিযুক্ত করেছেন।
আন্দ্রি সিবিহা বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো যা মানুষের জীবনরক্ষাকারী তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এটি কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়। নিত্যদিনের জীবনযাত্রা সচল রাখার জন্য এটি অপরিহার্য।
এএফপি-র সাংবাদিকরা পুরো শহরজুড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পান; সেসময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল এবং কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সাধারণ মানুষ পোড়া গন্ধ পাচ্ছিলেন।
আর্তেম দে রেভিয়াহা নামের এক ব্যক্তি জানান, প্রথম আঘাতটি তাদের ভবনে লাগার পর তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা অফিস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ‘সবাই বাইরে বেরিয়ে এসেছিল এবং আমরা মাত্র দুই মিটার দূরে সরে যাওয়ার পরই দ্বিতীয় হামলাটি ঘটে।’
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.