
সংবাদের আলো ডেস্ক: তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশে বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্টনে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডি-ম্যাব) আয়োজিত ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের স্বাস্থ্যখাতে ভূমিকা, প্রত্যাশা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে বিশ্বমানের ও সুসংহত করতে চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জাহিদ হোসেন বলেন, ঐক্য ও পারস্পরিক সংহতি ছাড়া কোনো পেশাগত সমস্যা টেকসইভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সবাইকে পেশাগত ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে নাগরিক ও পেশাগত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকারের একার পক্ষে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ডি-ম্যাবের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের জন্য সরকারিভাবে সৃষ্ট ৩ হাজার ২০০টি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ ও পদায়নের দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি বলেন, শুধু সরকারি পর্যায়েই নয়, বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতেও দক্ষ এই জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সভায় ডি-ম্যাবের সদস্যদের পক্ষ থেকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনায় ৩৫ হাজার বেকার ডিএমএফ ডিগ্রিধারীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বর্তমানে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের প্রায় ৩ হাজার ২০০টি শূন্য পদে দ্রুত পদায়নের দাবি জানানো হয়।
এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। ডি-ম্যাবের আহ্বায়ক মো. শহীদুল্লাহ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.