
সংবাদের আলো ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি
অধিবেশনে ভাষণ দেওয়রি পাশাপাশি সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তিনি জানান, এরমধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠকগুলো উল্লেখযোগ্য।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এর পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে তিনি ওয়াল স্টিট ও মেটাসহ আরও কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
তিনি বলেন, এসব আলোচনায় বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ; উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা; দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বোয়িং চুক্তি প্রসঙ্গ
নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাতের কথাও শোনা যাচ্ছে।
নতুন চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরকালে বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তির কথা শোনা যাচ্ছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি নিয়ে পররাষ্ট্রসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
কৌশলী জবাবে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বহুপাক্ষিক সম্মেলনগুলোতে রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানরা যান তখন যে কর্মসূচি তৈরি করা হয় এটা একটা চলমান কর্মসূচি। এটা এই রকম না যে, যা কিছু আমরা নির্ধারণ করে নিলাম সেগুলো হবে তার কোনো কিছু বাদ পড়বে না।
তিনি বলেন, আবার যা কিছু আমরা নির্ধারণ করে যাইনি তার কোনটা অন্তভুক্ত হবে। সুতরাং, এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। সব অপশন খোলা রয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.