
সংবাদের আলো ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরা মডেল টাউনের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলোতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট। প্রয়োজনের তুলনায় বহুগুণ বেশি অটোরিকশা চলাচলের কারণে প্রতিটি মোড়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ফলে প্রতিদিন স্থবির হয়ে পড়ছে উত্তরাবাসীর জনজীবন; চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ কর্মজীবীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অটোরিকশা চালকরা কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল মানেন না। কার আগে কে যাবে তা নিয়ে চলে তীব্র প্রতিযোগিতা। এমনকি গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলায় বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, যা নিয়ে প্রায়শই যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া বাঁধছে। যত্রতত্র ও ইচ্ছেমতো গাড়ি পার্কিং করার অভ্যাসের কারণে পুরো এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
অটোরিকশার এই অনিয়ন্ত্রিত দাপটে সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি জরুরি সেবামূলক গাড়ি যেমন অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিস চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে উত্তরার আজমপুর, বিএনএস সেন্টার, ৬ নম্বর সেক্টর হাউস বিল্ডিং, রাজলক্ষ্মী, কসাইবাড়ী, হাজীক্যাম্প, সিঙ্গার মোড়, খালপাড়, জমজম টাওয়ার, জসিমউদ্দীন রোড এবং মুগ্ধ মঞ্চের মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে অটোরিকশার সংখ্যা।
শুধু সড়ক দুর্ঘটনা বা যানজটই নয়, এই নৈরাজ্যের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহেও। অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে, যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে ঘন ঘন লোডশেডিং। সব মিলিয়ে তীব্র যানজট ও বিদ্যুৎ সংকটে অতিষ্ঠ নগরবাসী সড়কের এই বিশৃঙ্খলার জন্য অটোরিকশাকেই দায়ী করছেন।
এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত অভিযান চালানো হচ্ছে, অনেক রিকশা ডাম্পিং করা হচ্ছে এবং চালকদের মূল সড়কে না আসতে সতর্ক করা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, ট্রাফিক পুলিশের সঠিক আইনপ্রয়োগ ও তদারকির অভাবে নিয়ন্ত্রণে আসছে না এই নৈরাজ্য।
উত্তরা মডেল টাউনের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা রক্ষা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রধান সড়কগুলোকে অটোরিকশামুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.