
সংবাদের আলো ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফুটবলের বৈশ্বিক উন্মাদনা কীভাবে সাধারণ মানুষের আবেগকে স্পর্শ করে, তার এক অনন্য ও বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের এক হতদরিদ্র ভ্যানচালক। নিজের জমিজমা বলতে কিছুই নেই, সপরিবারে থাকেন সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে। অথচ প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি নিখাদ ভালোবাসা থেকে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পুরো এলাকাকে আর্জেন্টিনার রঙে সাজিয়ে তুলেছেন তিনি।
সংসারে তীব্র অভাব-অনটন থাকলেও ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হলেই চেনা রূপ বদলে যায় সুমন গৌড়ের। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর সদরের দত্তপাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সুমন এলাকায় এখন সবার কাছে ‘মেসি সুমন’ নামে সমধিক পরিচিত। নিজের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র সম্বল ভ্যান রিকশাটিকে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা পতাকায় মুড়িয়েছেন, সেই সাথে কিনেছেন ১৬টি বড় পতাকা।
শুধু নিজের ভ্যানই নয়, আর্জেন্টিনার ব্যানার, ফেস্টুন আর নানা সাজসজ্জায় নিজের পুরো বসতিপাড়া এমনভাবে সাজিয়ে তুলেছেন যে, দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটি যেন বাংলাদেশের বুকে ছোট্ট একটি ‘আর্জেন্টিনা গ্রাম’।
এই বিশাল আয়োজনের পেছনের গল্পটি আরও বেশি চমকপ্রদ। ফুটবলের প্রতি এই আবেগকে রূপ দিতে স্ত্রী আরতি রাণী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পূর্ণিমার নামে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন সুমন। ঋণের এই পুরো অর্থ তিনি ব্যয় করছেন প্রিয় দলের পতাকা, ব্যানার, রং ও পাড়ার সাজসজ্জার পেছনে।
এখানেই শেষ নয়, বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রিয় দলের খেলা দেখার পাশাপাশি অন্যান্য আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য বিরিয়ানি রান্না করে ধুমধাম আপ্যায়নেরও বড় এক পরিকল্পনা করে রেখেছেন তিনি।
প্রিয় দলের প্রতি এমন পাগলামি প্রসঙ্গে সুমন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার অন্ধ সমর্থক। ফুটবলের প্রতি এই টান আমার রক্তে। এখন এলাকার সবাই আমাকে সুমন নামে না ডেকে ‘মেসি সুমন’ নামেই চেনে। বিশ্বকাপ এলেই আমি নিজের সাধ্যের বাইরে গিয়ে আর্জেন্টিনার জন্য কিছু করার চেষ্টা করি, কারণ এটা আমার ভালোবাসা।”
স্বামীর এই বিপুল খরচ আর ফুটবলপ্রেম নিয়ে সুমনের স্ত্রী আরতি রাণী জানান, বিয়ের পর থেকেই তিনি স্বামীর এই ফুটবলপাগলামি দেখে আসছেন। সংসারে প্রতিনিয়ত অভাব-অনটন লেগে থাকলেও বিশ্বকাপ এলে সুমন যেন সবকিছু ভুলে যান। এত টাকা ঋণ নিয়ে এসব করা বাইরে থেকে পাগলামি মনে হলেও, স্বামীর এই অকৃত্রিম আনন্দ ও ভালোবাসার কথা বিবেচনা করে স্ত্রী হিসেবে তিনি এটি মুখ বুজে মেনে নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও সুমনের এই আর্জেন্টিনা প্রীতি দেখে মুগ্ধ। তাঁরা জানান, সুমন অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ, দিন এনে দিন খেয়ে কোনোমতে সংসার চলে তাঁর। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই তিনি ঋণ নিয়ে এলাকায় এমন অভূতপূর্ব সাজসজ্জা ও খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেন। ফুটবলের প্রতি এমন নিঃস্বার্থ ও উন্মাতাল ভালোবাসার কারণেই পুরো এলাকায় তিনি এক নামে পরিচিতি পেয়েছেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.