পল্লী উন্নয়ন বোর্ড অফিসে নেই কর্মকর্তা কর্মচারী , সেবা না পেয়ে ক্ষোভে ফিরছেন মানুষ
নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ১০টায়ও কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে এসে সংশ্লিষ্টদের অনুপস্থিতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অফিস পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিআরডিবি কার্যালয়ে পিয়ন ছাড়া অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত নেই। বিভিন্ন কাজের জন্য আসা সাধারণ মানুষ অফিস কক্ষগুলো ঘুরে দেখেও কাউকে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কার্যালয়ে প্রায় ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও অধিকাংশ সময় অফিসে তাদের দেখা যায় না। অফিসে এসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খোঁজ করলে তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বলে জানানো হয়। তবে নিয়মিত সেবা নিতে আসা অনেকেই দাবি করেন, অফিস সময়ে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে নানা কাজে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মোস্তাক হোসেন সেবাগ্রহীতা বলেন, “বিভিন্ন প্রয়োজন নিয়ে কয়েকবার অফিসে এসেছি। কর্মকর্তাদের ফোন করলে কখনো বলেন কাল আসেন, কখনো বলেন পরশু আসেন। কিন্তু অফিসে এসে তাদের পাওয়া যায় না। এতে আমাদের সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে।”
আরেকজন সেবাপ্রার্থী মাহমুদা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “অনেক কর্মকর্তা অফিসে না এসে বাসা থেকেই মাঠে কাজ করার কথা বলে দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আটপাড়া উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নিলিমা নুপুর ঝিনুক বলেন, “আমাদের অফিসে জনবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে যারা কর্মরত আছেন, তাদের অধিকাংশই মাঠকর্মী। মাঠকর্মীদের দায়িত্ব মূলত মাঠপর্যায়ে কাজ করা, তাই তারা বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। অফিসে সাধারণত পিয়ন ও অফিস সহকারী থাকেন। আজ আমি জেলা পর্যায়ের একটি সভায় অংশ নিতে এসেছি।
আমাদের কোনো স্থায়ী হিসাবরক্ষক (অ্যাকাউন্ট্যান্ট) নেই। ভারপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন, যিনি সপ্তাহে একদিন অফিসে আসেন। মোট জনবল প্রায় ১৫ জন থাকলেও অধিকাংশই মাঠপর্যায়ের কাজে নিয়োজিত। আমাদের কার্যক্রম মূলত ঋণ ও সমবায়ভিত্তিক হওয়ায় মাঠে গিয়ে কাজ করতে হয়।
আজ অফিসে পিয়ন উপস্থিত ছিলেন। অফিস সহকারীরও অফিসে থাকার কথা ছিল। তিনি অফিসের বিভিন্ন তথ্য ও সেবাসংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারেন। মূলত আমাদের কার্যক্রমের ধরন এমন যে অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়। শুধু আমাদের অফিস নয়, ঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই এ ধরনের মাঠভিত্তিক কার্যক্রম দেখা যায়।”
তবে সরকারি অফিস চলাকালে কার্যালয়ে কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ের কাজ থাকলেও অফিসে ন্যূনতম সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
এ বিষয়ে আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “বিআরডিবির বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাজ মাঠপর্যায়ে হয়ে থাকে। তবে অফিস সময়ে কারা কার্যালয়ে থাকার কথা এবং বাস্তবে উপস্থিতি কেমন ছিল, সে বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে সরকারি সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের কাজের অজুহাতে নিয়মিত অফিস ফাঁকা রাখা হলে জনগণের সেবা প্রাপ্তি ব্যাহত হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।