মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

সংবাদের আলো ডেস্ক: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগেরসহ (দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে) যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে কিনা- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো রকম কোনো সমস্যা নেই। মানে একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগের…. কারণ এটা নির্দলীয়, এখানে কেউই দলের কথা বলবেন না। একজন নির্দলীয় ব্যক্তি আসলেন কিন্তু তিনি তার ক্যাম্পেইনে আওয়ামী লীগ বা তাদের যা যা বলার সেগুলো বলেন সেটা প্রবলেম হবে। এর বাইরে নির্দলীয় ব্যক্তি তার যে ক্রাইটেরিয়া (শর্ত) আছে নির্বাচনটা করার জন্য সেটা যদি তিনি ফুলফিল করতে পারেন, তিনি নির্বাচন করতে পারেন। নিশ্চয়ই পারেন।’

যদি নির্বাচনে আসা কারো আওয়ামী লীগের দলীয় পদ-পদবি থাকে তাহলে কি হবে? জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পোস্ট পজিশন… আসলে যেটা হয় আরকি, সংগঠনের কর্মসূচি যেহেতু নিষিদ্ধ আছে এই পোস্ট পজিশন তিনি তো আসলে ব্যবহার করছেন না, তিনি করতে পারেন না। ব্যক্তি হিসেবে যেকোনো কেউ যদি ক্রাইটেরিয়া যা আছে সেটা ফুলফিল করতে পারেন, তিনি যদি মনে করেন নির্বাচন করবেন তিনি নির্বাচন করতে পারেন। সরকারের দিক থেকে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই এই ব্যাপারে।’

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মামলা থাকলে কি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন? এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাকে এটা জানতে হবে, মামলা থাকলেও তো জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা যায়। আমি আবারও বলছি কিন্তু, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর যে গিভেন ক্রাইটেরিয়া আছে, আমি আরেকটু সহজ করে দেই। ধরুন এই পার্লামেন্ট ইলেকশনে আওয়ামী লীগের কোনো এককালের নেতা চাইলেন যে আমি নির্বাচন করব, তিনি নির্বাচন করতে পারতেন। এমনকি মামলা থাকা জেলে থাকার পরও। কারণ সংসদ নির্বাচনে বলছে আপনি দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত হতে হবে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে, এর আগ পর্যন্ত আপনি তো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন। সো এই সুযোগগুলো তখনও ছিল, এখনও আছে।’

বিভিন্ন জায়গায় কার্যক্রমনিষিদ্ধ থাকা ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের উপর আক্রমণ করেছে। কোথাও মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘ব্যবস্থা যদি না নেওয়া হতো বা সরকার যদি অ্যালার্ট না হতো তাহলে এই প্রবণতা কিন্তু আরও বেশি হতো। আমরা একটা কথা বারবার বলছি, একটা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও আইন ভঙ্গের প্রবণতা থাকে। এটা সব দেশে আর আমাদের মতো দেশে তো আরও বেশি থাকে। এটা হলো এক নাম্বার। দুই নাম্বার হচ্ছে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে যারা নিষিদ্ধ আছে, আপনারা খেয়াল করবেন যে সরকারের এই বদনামও আওয়ামী গোষ্ঠী রূপান্তর করেছে যে ২০০৯ সালের যে সন্ত্রাস দমন আইনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে ফর দ্য টাইম বিয়িং, সেটার যে অধ্যাদেশ ছিল সেটাকে এই সরকার আইনে পরিণত করেছে। তার মানে সরকার চাইছে তার কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটার সমালোচনাও অনেকে করছেন। তার মানে সরকারের ইনটেনশনটা আমি জানিয়ে দিলাম যে সরকার চাইছে এটা থাকুক। সেটার বিরুদ্ধে কখনো কখনো কোনো কোনো ঘটনা ঘটছে আপনি যেটা বললেন এটা ঘটছে এবং সেটা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই সিরিয়াস থাকবে এবং একটা যেটা বললেন যে খুব বড় স্কেলে করার চেষ্টা হয়েছে মাইকে কথা বা ঘোষণা দিয়ে, এই প্রবণতা বন্ধ করার জন্য কাজ করবে এই সরকার।’

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়