
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৃথক দুই ঘটনায় নদীতে নিখোঁজ হওয়া এক বৃদ্ধা ও এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) করতোয়া ও যমুনা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন উল্লাপাড়া উপজেলার ঘাটিনা পালপাড়া গ্রামের বিষ্টপদ শীলের স্ত্রী মায়া রানী (১০০) এবং শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের লস্কোর আলী মোল্লার ছেলে তামিম হোসেন (১৪)।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার(২ জুন) করতোয়া নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন মায়া রানী। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালালেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার(৪জুন) সকালে শাহজাদপুর উপজেলার গাঁড়াদহ ইউনিয়নের শ্মশানঘাট সংলগ্ন করতোয়া নদীতে তার ভাসমান মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
অপরদিকে, বুধবার(৩জুন) দুপুরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাড়িতে এসে পরিবারের অন্য ছেলেদের সঙ্গে যমুনা নদীতে গোসল করতে যায় সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তামিম হোসেন। এ সময় নদীতে গোসলরত এক শিশু গভীর পানিতে ডুবে গেলে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে তামিম। কিন্তু সাঁতার না জানায় সে নিজেই গভীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও জেলেরা নৌকা ও জাল দিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। পরে শাহজাদপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এবং রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর বৃহস্পতিবার(৪জুন) দুপুরে যমুনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
এব্যপারে শাহজাদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে স্টেশন অফিসার পারভেজ আহম্মেদ জানান, রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দুই দিন চেষ্টা করে নিখোঁজ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এবং আমরা উদ্ধারকৃত লাশ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এবিষয়ে শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) নাজমুল কাদের জানান, বৃদ্ধা মায়া রানীর লাশ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থী তামিম হোসেনের লাশের আইনগত প্রক্রিয়া নৌ পুলিশ সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.