
সংবাদের আলো ডেস্ক: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ছিনতাইসহ নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর অংশ হিসেবে কাওলা থেকে উত্তরার ‘জসিম উদ্দিন মোড়’ পর্যন্ত পুরো এলাকাকে শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে।
বিমানবন্দর থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের টার্গেট করে গড়ে ওঠা একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র প্রতিরোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কাওলা এলাকায় বোনকে পাঠানো স্বর্ণ লুটের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের গ্রেফতারের পর এ সিদ্ধান্ত আরও গতি পায়।
বর্তমানে থার্ড টার্মিনালের সামনে থেকে গোলচত্বর পর্যন্ত ২৫টি সিসি ক্যামেরা সচল রয়েছে। নতুন উদ্যোগের ফলে ক্রাউন প্লাজা থেকে শুরু করে জসিম উদ্দিন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে, অর্থাৎ বিমানবন্দর স্টেশন, রেললাইন অতিক্রম করে হজ ক্যাম্প পর্যন্ত পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতাভুক্ত করা হবে।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম তালুকদার জানান, প্রবাসীদের লক্ষ্য করে অপরাধ প্রতিরোধে প্রায় ১০০টি সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যেকোনো অপরাধীকে সহজে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, এই এলাকায় মূলত তিনটি চক্র সক্রিয় রয়েছে: ১. ছিনতাইকারী চক্র: বিমানবন্দরের সামনের মোড়, কাওলার মোড় ও সংলগ্ন বাস কাউন্টার এলাকায় দিন-রাতে অস্ত্রসহ সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের লক্ষ্য করে ছিনতাই কার্যক্রম চালায়।
২. চালকবেশী ডাকাত চক্র: আত্মীয় কিংবা গাড়ি না থাকা প্রবাসীদের কম ভাড়ার লোভ দেখিয়ে গাড়িতে তোলে। মাঝপথে নিজেদের লোক তুলে নির্জন স্থানে প্রবাসীদের মারধর করে সর্বস্ব লুটে নেয়।
৩. অজ্ঞান পার্টি: বিদেশফেরতদের বেশ ধরে সখ্য গড়ে তোলে এবং কৌশলে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়।
অপরাধ দমনে বিমানবন্দর এলাকায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে নজরদারি অনেক বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন (APBN)-এর গোয়েন্দা ইউনিটকে সতর্ক রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে এলাকা থেকে প্রবাসীদের বিরক্তকারী ভবঘুরে ও টোকাইদের আটক করে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.