
সংবাদের আলো ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে নুরজাহান বেগমের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ সরকার জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। রিটের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম যে বাসায় ছিলেন, সেটা তার মেয়ের বাসা। সেখানে তিনি মেয়ের সঙ্গে থাকতেন এবং বাসাটি খুব নোংরা ছিল।
তিনি আরও বলেন, নুরজাহান বেগমের সন্তানেরা সবাই প্রতিষ্ঠিত। এ ঘটনায় নুরজাহান বেগমের স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তিনি ঠিক কবে কী কারণে মারা গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তার ছেলে হিসেবে আলোচিত যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রচলিত আইন ও বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার (৩১ মে) জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে বৃদ্ধা ওই মায়ের পচা-গলা-পোকা ধরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে মায়ের সঙ্গে একই বাসায় পাশাপাশি রুমে বসবাস করলেও মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করেননি মেয়ে।
প্রতিবেশীদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন একা বসবাস করতেন। নুরজাহান বেগমের অন্য আরেক সন্তান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং মেয়ে স্কুল শিক্ষিকা। নুরজাহান বেগমের দুই ছেলে আলাদা থাকতেন। মায়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না তাদের।
এ ঘটনায় তার ছেলে হিসেবে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান ও অপর ছেলে এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের একজন অধ্যাপক। তাদের নাম সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.