
সংবাদের আলো ডেস্ক: কর্ণজোড়ায় মুকুল মিয়ার নির্জন বাড়িতে সন্দেহজনক যাতায়াত, সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে পালানোর অভিযোগ শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সিঙ্গাবরুনা ইউনিয়নের কর্ণজোড়া এলাকায় মুকুল মিয়ার একটি নির্জন ও পরিবারহীন ফাঁকা বাড়িকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অসামাজিক ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাড়িটিতে পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত বসবাস না করায় সেখানে অপরিচিত ব্যক্তিদের অবাধ যাতায়াত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে বিভিন্ন সময় অপরিচিত নারী-পুরুষের যাতায়াত লক্ষ্য করা গেলেও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস করেননি। ঘটনার দিন স্থানীয় এক সাংবাদিক ওই বাড়িতে এক তরুণীকে প্রবেশ করতে দেখেন। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, তরুণীর বাড়ি জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর এলাকায়।
স্থানীয়দের দাবি, ওই তরুণী একটি কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অভিযোগ রয়েছে, এ ধরনের চক্র বিভিন্ন ব্যক্তিকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে ছবি বা ভিডিও ধারণের পর তা ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। তবে ওই তরুণী কিংবা মুকুল মিয়া সরাসরি এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মুকুল মিয়ার ফাঁকা বাড়িটি এসব সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিনে ওই বাড়িতে যান।
সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পাওয়ার পর মুকুল মিয়া ও ওই তরুণী বাড়ির পেছনের একটি পথ দিয়ে দ্রুত সরে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন। তাদের সরে যেতে কয়েকজন সহযোগী মোটরসাইকেল ব্যবহার করে সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরবর্তীতে মুকুল মিয়া সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হলেও বাড়িটিতে অপরিচিত ব্যক্তিদের যাতায়াত এবং সেখানে তরুণীর উপস্থিতির বিষয়ে করা বিভিন্ন প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে আরও দুই অপরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতি ও তাদের কথাবার্তা-আচরণ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিওচিত্রে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন দৃশ্যও সংরক্ষিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোনো ফাঁকা বাড়ি যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আখড়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে তা শুধু ওই বাড়ির মালিকের বিষয় নয়—এটি পুরো এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ।
তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের পাশাপাশি কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.