
আলমগীর কবির, (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কাগজপত্র ও হেলমেটবিহীন উঠতি বয়সী যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন নান্নু মিয়া (৬৫) নামের এক প্রতিষ্ঠিত মুদি ব্যবসায়ী। ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ২৫ মে (সোমবার) সকাল ১১টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।
নিহত নান্নু মিয়া উপজেলার মালিডাঙ্গা গ্রামের মৃত ওহাব মিয়া (মাস্টার)-এর ছেলে এবং আলফাডাঙ্গা উপজেলা সমকাল প্রতিনিধি সাংবাদিক মো: ইকবাল হোসেনের মেঝ মামা। তিনি উপজেলার বুড়াইচ নতুন বাজারের একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন।সরজমিনে ও পারিবারিক সূত্রে জানা , গত ২৪ মে (রবিবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন নান্নু মিয়া। এ সময় পেছন থেকে আসা তিন আরোহীসহ একটি বেপরোয়া ও দ্রুতগামী মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা দেওয়ার পর মোটরসাইকেলটি তাকে প্রায় ২০ হাত দূর পর্যন্ত টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে যায়।
মোটরসাইকেলের মারাত্মক আঘাতে ব্যবসায়ী নান্নু মিয়ার হাত ভেঙে যায় এবং নাক, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতবিক্ষত হয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দুর্ঘটনার পর বাজারের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে আলফাডাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানেও অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই আজ সকাল ১১টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্যবসায়ী নান্নু মিয়ার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। নিহতের স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো যুবকদের মধ্যে একজন আলফাডাঙ্গা পৌরসভাধীন কুসুমদি গ্রামের আবুল শেখের ছেলে খালিদ শেখ। তার সাথে থাকা বাকি দুজনও একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় তাদের মোটরসাইকেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা মাথায় হেলমেট ছিল না।
কাগজপত্রবিহীন ও উঠতি বয়সী যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেলের আঘাতে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, "বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। তবে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ হাতে পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।" এদিকে নিহতের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, মামলা বা আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.