
সংবাদের আলো ডেস্ক: থাইল্যান্ডের সংঘাতকবলিত দক্ষিণাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একযোগে ৫০টিরও বেশি স্থানে অগ্নিসংযোগ এবং ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে রোববার দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে সমন্বিত অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত দু’জন আহত হয়েছেন। দুর্বৃত্তরা দেশটির স্থানীয় সরকারি ভবন, দোকান এবং একটি চুরি করা গাড়িসহ একাধিক স্থানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।
থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে এসব অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
বেশিরভাগ হামলার খবর পাওয়া গেছে নারাথিওয়াত প্রদেশ থেকে। এছাড়া পাশ্ববর্তী ইয়ালা ও পাত্তানি এলাকাতেও বেশ কিছু অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্ট বলেছে, নারাথিওয়াত প্রদেশের মুয়াং জেলায় বোমা বিস্ফোরণে দুই নারী আহত হয়েছেন।
কয়েকটি জায়গায় টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে আগুন দেওয়া হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক বস্তুতে হাত না দেওয়ার জন্য বাসিন্দাদের সতর্ক করেছেন দেশটির নিরাপত্তাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নারাথিওয়াত প্রদেশে রাতভর সান্ধ্য আইন জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে রোববার সকালের দিকে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। রোববার নতুন করে কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একযোগে এসব অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ডের এই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে আসছেন। ২০০৪ সাল থেকে এই ধরনের স্বল্পমাত্রার সংঘাত চলছে। দেশটিতে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
বিদ্রোহীদের এই তৎপরতা বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী পরিচালনা করে আসছে। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হলেও ব্যাংককের সরকার পরিবর্তন এবং উভয়পক্ষের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ মতভেদের কারণে শান্তি প্রক্রিয়া বারবার থমকে গেছে।
গত জুলাইয়ে নারাথিওয়াতের একটি তল্লাশি চৌকিতে বন্দুক ও বোমা হামলায় পাঁচ সেনা সদস্য নিহত হন। এই হামলার পর নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করতে বাধ্য হয় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
থাই সংবাদ মাধ্যম বলেছে, সশস্ত্র বিদ্রোহীরা প্রায়ই নিরাপত্তাকর্মী এবং সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। অনেক সময় ওই অঞ্চলে সরকারি কর্মকর্তাদের সফরের ঠিক আগেই হামলার ঘটনা ঘটে।
বিনিয়োগ প্রকল্প, বন্যা প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ সোংখলা প্রদেশের হাত ইয়াই শহরে দুই দিনের সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.