
মনিরুল ইসলাম, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। হামলার ঘটনার পরপরই সাংবাদিক সমাজ মানববন্ধন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিলেও সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও পুলিশের দৃশ্যমান কোনো অভিযান না থাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এতে করে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কাদের ছত্রছায়ায় থেকে আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে? মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকদের উপরে আঘাতের পরও যদি প্রশাসনের টনক না নড়ে, তাহলে বুঝতে হবে অপরাধীদের প্রতি কারও না কারও আশ্রয় প্রশ্রয় রয়েছে। তারা আরও বলেন, এ হামলা ব্যক্তি সাংবাদিকদের ওপর নয়, এটি সত্য ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন আঘাত।
সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে উল্লাপাড়া থেকে শুরু হবে বৃহত্তর আন্দোলন। মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচিসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তারা। প্রয়োজনে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ারও ঘোষণা আসে। এদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন একটি আলোচিত হামলার ঘটনায় মামলা হওয়ার পরও যদি আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় বিচার পাবে? উল্লাপাড়ার সাংবাদিক সমাজ বলছে, সময় শেষ।
এখন আর আশ্বাস নয়, গ্রেপ্তার দেখতে চায় মানুষ। উল্লেখ্য ; গত ২২ এপ্রিল উপজেলার বালসাবাড়ী এলাকায় ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা হাইব্রিড সিল্ক সুতা গোপনে খালাস করা হচ্ছিল, যার মাধ্যমে সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সুতা আমদানি করছে । এ সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আলামিন জোয়াদ্দার ও মনিরুল সহ অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জন ।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.