
সংবাদের আলো ডেস্ক: শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমরা ব্রেইন-ড্রেইনের কথা বলছি। আমাদের মেধাস্বত্ব বিদেশে গিয়ে নিবন্ধন ও ট্রেডমার্ক পাচ্ছে, কিন্তু দেশে তা হচ্ছে না, এটি প্রশাসনিক দুর্বলতা।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) বিশ্ব মেধাসত্ত্ব দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মেধাস্বত্ব দেশে ফিরিয়ে আনতে রিভার্স ব্রেইন-ড্রেইন জরুরি। বিদেশে পড়তে যাওয়া অনেকেই ফিরছেন, তবে কত মেধা হারাচ্ছি, সেটির সঠিক পরিসংখ্যান নেই। এ ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আরও উদ্যোগ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবনের সঙ্গে খেলাধূলাকে যুক্ত করে গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় বাজেট থাকলেও গবেষণার জন্য কোনো বাজেট নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ও মন্ত্রণালয় থেকে এ নিয়ে কাজ করতে হবে। বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ রাখার ব্যাপারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেবো, তাই কারিকুলাম ও সিলেবাস ঠিক করতে হবে। কিন্তু ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষা জুন-জুলাইয়ে শেষ হয়ে ফল প্রকাশ হয় অক্টোবরের মাঝামাঝি, এরপর জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি শুরু হয়। এতে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। প্রায় ২০ লাখ এসএসসি ও ২০ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জীবন থেকে শুধু ভর্তি পরীক্ষার কারণে বহু সময় নষ্ট হচ্ছে, যা আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কমিয়ে দিচ্ছে। ইউজিসিকে অনুরোধ করব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বসে ভর্তি প্রক্রিয়া ও শিক্ষা বর্ষ একসঙ্গে সমন্বয় করতে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ২৭ শতাংশ মানুষ তরুণ। কিন্তু তারা ইন্সট্যান্ট কফির মতো রিঅ্যাক্ট ও কমেন্ট করে। তারা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে চায় না, এমনকি বুঝতেও চায় না। বোঝার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে। তাহলে গবেষণা, উদ্ভাবন আর অগ্রগতি কীভাবে হবে? তাদের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এমনকি তারা ইউনিফর্ম পরেও শিক্ষক-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরণের বাজে উক্তি করতে তারা দেরি করে না।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, গুজবের কারণে ছাত্ররা যেনো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। এ ধরণের গুজবে সরকার বিব্রত।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.