
আলমগীর কবির,ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় তীব্র ডিজেল সংকটে ইরি-বোরো চাষাবাদ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সেচের অভাবে মাঠের পর মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, আর চোখের সামনে সোনালী স্বপ্ন নষ্ট হতে দেখে কৃষকদের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে চরডাঙ্গা গ্রামের আকাশ-বাতাস।
মাঠ পর্যায়ে করুণ চিত্র সরেজমিনে উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পানির অভাবে অনেক জমির মাটি শুকিয়ে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ধানে শীষ এলেও প্রয়োজনীয় সেচ দিতে না পারায় ধানে চিটা ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চরডাঙ্গা গ্রামের আদর্শ কৃষক কামরুল ইসলাম খাঁজা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, তার ইরি ব্লকের ৫ একর ৩০ শতাংশ জমি পানির অভাবে নষ্ট হওয়ার পথে।
তিনি বলেন: "তেলের সমস্যার কারণে আজ আমার জমি শুকিয়ে চৌচির। আমি উপজেলা কৃষি অফিসার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। তারা সামান্য কিছু তেলের ব্যবস্থা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। বারবার অনুরোধ করতে করতে আমি ক্লান্ত। এখন ধান পাকার সময়, অথচ তেলের অভাবে পুরো ব্লকের আশা ছেড়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়েছে।"
পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার দুশ্চিন্তা একই গ্রামের প্রবীণ কৃষক তারা মিয়া আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "আমি দরিদ্র মানুষ। অনেক কষ্ট করে ৩ একর জমিতে ইরি চাষ করেছি। এই ধানের ওপরই আমার পরিবারের সারা বছরের খাবার নির্ভর করে। তেলের অভাবে সেচ দিতে পারছি না, জমি ফেটে যাচ্ছে। এখন যদি ব্যবস্থা না হয়, তবে না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই।"
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা কৃষকরা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা দিশেহারা। তেলের সংকট দ্রুত সমাধান না হলে উপজেলার শত শত বিঘা জমির ধান ঘরে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন— যেন জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত ডিজেল তেলের ব্যবস্থা করে তাদের ফসল ও জীবন বাঁচানো হয়।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.