
সংবাদের আলো ডেস্ক: প্রায় ৫০ দিন ধরে চলা ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে উৎপাদিত হয়নি ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের অপরিশোধিত তেল। এ সংকটের প্রভাব আগামী কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে বলে দাবি বিশ্লেষক ও ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
বৈশ্বিক পণ্য ও বাণিজ্যের লাইভ ডাটা প্রদানকারী সংস্থা কেপলার ডাটা জানিয়েছে, এ বছর ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংকট শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক বাজারে ৫০ কোটির বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট সরবরাহ কমেছে। যেটিকে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিমাণ তেল দিয়ে বিশ্বব্যাপী পাঁচ দিনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব ছিল। এছাড়া এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক মাসের তেলের চাহিদা কিংবা ইউরোপের এক মাসের বেশি সময়ের জ্বালানি চাহিদার সমান।
গত মার্চ মাসে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দৈনিক প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমে যায়, যা বিশ্বের বড় দুই তেল কোম্পানি এক্সন মবিল (Exxon Mobil) ও শেভরন (Chevron)-এর সম্মিলিত উৎপাদনের কাছাকাছি।
এছাড়া সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান থেকে জেট ফুয়েল রফতানি গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১ কোটি ৯৬ লাখ ব্যারেল থেকে নেমে মার্চ ও এপ্রিল মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪১ লাখ ব্যারেলে।
তেলের গড় মূল্য প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ধরে, এই ঘাটতির আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছেন ডাটা সংস্থা কেপলারের গবেষক জোহানেস রাউবল।
তবে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে কুয়েত ও ইরাকের ভারী তেলক্ষেত্র স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে।
এছাড়া বিভিন্ন শোধনাগার ও কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের ক্ষয়ক্ষতির কারণে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো পুরোপুরি পুনরুদ্ধারে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.