
আখতার হোসেন খান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ৭০ বছরের পুরনো সেতুর ভগ্ন কাঠামোর ওপরই নতুন করে সেতু নির্মাণ করায় এর স্থায়িত্ব নিয়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। নির্মাণ কাজের নানা ত্রুটি ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে সেতুটি এখনই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
উপজেলার ফসলান্দি এলাকায় গ্রামীণফোন টাওয়ার সংলগ্ন প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খার বাড়ি যাওয়ার প্রধান সড়কের এই সেতুটি ফসলান্দি, বিরামদী ও ভারইসহ অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর তত্ত্বাবধানে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে চুক্তিমূল্য ১১ লাখ ৫৬ হাজার ২শত১১. ৭৫ টাকায় মেসার্স সুমন মাহমুদ এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। তবে নতুন করে সেতু নির্মাণ না করে পুরনো ইটের গাথুনি অক্ষত রেখেই তার ওপর স্প্যান বসিয়ে এবং পাটাতন ঢালাই করে কাজ শেষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর নিচের কাদামাটিতে দুর্বল শাটারিংয়ের কারণে পুরো কাঠামো কিছুটা বেঁকে গেছে। পুরনো ইটের গাথুনিতে শুধু নতুন করে পলেস্তারা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে, যা নির্মাণের মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেতুর ছবি ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যেও শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “পুরনো সেতুই এর চেয়ে বেশি মজবুত ছিল।”
স্থানীয়রা জানান, সেতু নির্মাণের পর নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় ধরে পানি দিয়ে কংক্রিটকে শক্ত করার কথা থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি। এমনকি নির্মাণকালীন বিকল্প রাস্তা (ডাইভার্শন) তৈরিতেও গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, “পুরনো সেতুতে তেমন সমস্যা ছিল না, সামান্য কার্পেটিং উঠে গিয়েছিল। সেটা মেরামত না করে নতুন করে বানিয়ে আরও খারাপ করা হয়েছে। নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা হয়েছে।”
আরেক বাসিন্দা তারিফ মিয়া বলেন, “পুরনো ইটের গাথুনির ওপরেই নতুন ঢালাই করা হয়েছে। যে কোনো সময় সেতুটি ধসে পড়তে পারে।” এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং এতে প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অনির্বান দুখু মিয়া দাবি করেন, “নকশা অনুযায়ীই কাজ করা হয়েছে এবং সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী।”
তবে উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, পুরাতন এপার্টমেন্টের উপর স্লাব বসানো হয়েছে। এই সেতু অন্তত ৫০ বছরে কিছু হবে না। নিয়ম অনুয়ায়ী কাজ করা হয়েছে,নিয়মের বাহিরে কোন কাজ হয় নাই।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.