
সংবাদের আলো ডেস্ক: বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানায় পৃথক দুই হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত তাকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
গত ১০ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় শিক্ষার্থী মো. আরিফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. মাহমুদুল হাসান আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন এবং গত ২৯ এপ্রিল আদাবর থানাধীন এলাকায় গার্মেন্টস কর্মী রুবেল হত্যা মামলায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান আসামি খায়রুলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। পৃথক দুই আবেদন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য সোমবার তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।
এদিন সকালে খায়রুল হককে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। দুপুরে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালতে ওঠানো হয়। শুনানির সময় তিনি কাঠগড়ায় নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন।
প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তার দেখানো পক্ষে শুনানি করেন। খায়রুল হকের পক্ষে তার আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন এর বিরোধিতা করে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পৃথক দুটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক এসব মামলায় এজাহারনামীয় আসামি। প্রধান বিচারপতি হয়ে তিনি দলীয়করণ করে ফ্যাস্টিস শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করেছেন। পঞ্চম সংশোধনী সংবিধানে সব বাদ দিয়ে দিয়েছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে শেখ হাসিনা ফ্যাস্টিস তৈরি করেছেন। শেখ হাসিনাকে ফ্যাস্টিস বানানোর মূল কারিগরি এই আসামি। যার কারণে মানুষ তার ভোটার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ফ্যাস্টিস সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে অনেক মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। এসব কারণে সরকার তাকে সব সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। মামলার তদন্ত স্বার্থে আসামিকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
খায়রুল হকের পক্ষে তার আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন শুনানিতে বলেন, আসামি একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি। তিনি জুডিশিয়াল মব সন্ত্রাসীর স্বীকার। গত ৫ মার্চ পাঁচ মামলায় তিনি জামিন পান। জামিন পাওয়ার পরপরই তাকে আরও দুই হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। আসামি জামিন পাওয়ার পরেও তাকে অন্য মামলায় কারাগারে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। আসামির ৮১ বছর বয়স। প্রায় এক বছর ধরে তিনি জেলহাজতে আটক রয়েছে। গ্রেপ্তার দেখানো বিরোধিতা করে তার জামিনের প্রার্থনা করছি।
এরপর বিচারক বলেন, এই আদালতে জামিন বিষয়ে শুনানি হবে না। শুধুমাত্র গ্রেপ্তার সংক্রান্ত শুনানি হয়েছে। আপনার জামিন সংক্রান্ত শুনানি নথিভুক্ত করা হলো। আর আসামিকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
আরিফ হত্যা মামলার অভিযোগে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত বছরের ১৯ জুলাই বিকালে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজার রোডে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সে সময় লর্ড হার্ডিঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. আরিফের চোখে গুলি লাগে। চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট আরিফের বাবা মো. ইউসুফ যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।
রুবেল হত্যা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা বেলা ১১টার দিকে আদাবর থানাধীন রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এসময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, কৃষকলীগ, মৎসজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে গার্মেন্টস কর্মী মো. রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলাটি করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।
উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২৪ জুলাই বিচারপতি খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.