
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: রাজধানীর সাথে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের গেটওয়ে পরিচিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস থেকে ২৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর বারোটা পর্যন্ত চলমান উদ্ধার অভিযানে পদ্মা নদীর তলদেশে ডুবে যাওয়া ২৬ জন বাস যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে কুষ্টিয়া কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সোহার্দ্য পরিবহনের ওই বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীর প্রায় ৭০ ফুট নিচে তলিয়ে যায়। বাসটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিল বলে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যাওয়া ওই বাসের যাত্রীরা জানান।
নিহত যাত্রীরা হলেন রাজবাড়ী পৌরসভার মৃত ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ (৩০), মৃত ডাক্তার আব্দুল আলিমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭) কুষ্টিয়া পৌরসভার মো. আবু বক্কর সিদ্দিকীর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাগড়াবাড়ীয়া এলাকার হিমাংশু বিশ্বাস এর ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২), কুষ্টিয়ার খোকসা এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩), গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), রাজবাড়ীর কালুখালী এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেল ফাইজ শাহানূর (১১), রাজবাড়ীর কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭), বাস চালক রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি এলাকার আরব খানের ছেলে আরমান খান (৩১), কালুখালী এলাকার আব্দুল আজিজ এর স্ত্রী জেসমিন (৩০), রাজবাড়ী সদরের সোবাহান মন্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), মান্নান মন্ডলের স্ত্রী জোস্ন্যা (৩৫), গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মুক্তা খানম (৩৮),
দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এলাকার নুর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০), ঢাকার আশুলিয়া এলাকার মোঃ নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লা মেয়ে সোহা আক্তার (১১), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমষপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ঝিনাইদহের শৈলকুপা এলাকার নুরুজ্জামানের সাত মাস বয়সী ছেলে আরমান রাজবাড়ী কালুখালী এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান (৬), রাজবাড়ী সদরের শরিফুল ইসলামের ছেলে সাবিত হাসান (৮), ইসমাইল হোসেন খানের ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), রাজবাড়ীর কালুখালী এলাকার মজনু শেখের ছেলে উজ্জ্বল, আফসার হোসেনের ছেলে ২৫) আশরাফুল ও সানি উল্লার ছেলে জাহাঙ্গীর। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৭ জন পুরুষ এবং ৮ জন শিশু রয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনা প্রবলিত বাসটি বিআইডব্লিউটিসির উদ্ধারকারী জাহাজ 'হামজা'র মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার কাজ তদারকি করেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। এসময় কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন ইউনিটসহ বিআইডব্লিউটিএ, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর ডুবরি দল উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটা পর্যন্ত ২৬ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ২১ জনের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিদের লাশ রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত পরিবারকে ২৫ হাজার এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা সরকারের পক্ষ থেকে প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.