
সংবাদের আলো ডেস্ক: দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান ও দখল পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে ইসরাইলকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে কানাডা ও ফ্রান্স। তারা জোর দিয়ে বলেছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা অবশ্যই সম্মান করতে হবে।
ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকা এবং বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতা আসে। জানা যায়, ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর আলজাজিরার।
বুধবার (২৫ মার্চ) কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে লেবাননের প্রতি সংহতি জানিয়ে সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিক, স্বাস্থ্যকর্মী ও শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো ইসরাইলকে পরিকল্পিত দখল অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এতে মানবিক সংকট আরও তীব্র হবে এবং লেবাননের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।
এদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ ইঙ্গিত দিয়েছেন, লিতানি নদী পর্যন্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা তখনই ফিরতে পারবেন, যখন উত্তর ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। গাজায় রাফাহ ও বেইত হানুনে চালানো অভিযানের উদাহরণ টেনে তিনি একই ধরনের কৌশলের ইঙ্গিত দেন।
অন্যদিকে দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ দক্ষিণ লেবাননকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ইসরাইলের সীমান্ত লিতানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়া উচিত।
এদিকে সাম্প্রতিক হামলায় দক্ষিণ লেবাননে সেতু, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাসমিয়েহ সেতুতে বোমা হামলাকে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের পূর্বাভাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন।
বুধবার লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন—এর মধ্যে আদলুনে চারজন এবং মিয়েহ মিয়েহ শরণার্থী শিবিরে দুজন। এর আগে হাব্বুশ এলাকায় হামলায় তিনজন নিহত ও ১৮ জন আহত হন।
সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। কানাডা ও ফ্রান্স বলছে, পরিস্থিতি আরও অবনতি ঠেকাতে এখনই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ও উত্তেজনা কমানো জরুরি।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক সপ্তাহের বিমান হামলায় অন্তত ১ হাজার ৭২ জন নিহত, প্রায় ৩,০০০ জন আহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দক্ষিণ লেবানন, বৈরুত ও পূর্বাঞ্চলের অনেক এলাকা এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.