
সঞ্জিত চক্রবর্তী, পাবনা প্রতিনিধি: চাটমোহরে জাহিদ হাসানের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে এলাকাবাসী। দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে রেলবাজারে চাটমোহর-পাবনা সড়কে মানববন্ধন ও প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এর আগে সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলার সিলন্দা বাজার সংলগ্ন বড়াল নদীতে এক যুবকের ভাসমান মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে মরদেহটি জাহিদ হাসানের বলে শনাক্ত করেন। নিহত জাহিদ হাসান (৩৫) চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের অমৃতকুন্ডা হাটপাড়া গ্রামের কাজেম প্রামাণিকের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে তিনি ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। গত ২০ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, জাহিদ মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নৌ পুলিশ তদন্ত করছে। নগরবাড়ি নৌ পুলিশের ইনচার্জ ফকরুল ইসলাম বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, জাহিদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং জাহিদকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে প্রচার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে জাহিদকে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি নিহতের ৫ বছর বয়সী সন্তানও বাবাকে মারধরের ঘটনার কথা জানিয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মেহেদী হাসান সুজন, আমজাদ হোসেন, শেখ জাবের আল শিহাব, সজীব হুমায়ূন, আব্দুল কুদ্দুস, সুজন মাহমুদ, আব্দুল মতিন, মতিউর রহমান, নুরে আলম সিদ্দিকী (মঞ্জু), মাহমুদ হাসান ও আসলাম শিকদারসহ স্থানীয়রা। পরে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও দ্রুত বিচার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.