
মনিরুল ইসলাম,নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় আধুনিক পদ্ধতিতে গাজর চাষ করে সাফল্যের নজির স্থাপন করেছেন স্থানীয় কৃষক মো. আবদুর রহিম। উপজেলার পাকুটিয়া ইউনিয়নের মাঝুটিয়া গ্রামের এই কৃষক প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানিযোগ্য গাজর চাষ করে ইতিমধ্যেই এলাকার কৃষকদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করেছেন।
ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বিষমুক্ত এই গাজর চাষ করা হয়েছে। উৎপাদিত গাজর স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়ে ভালো সাড়া ফেলেছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে মাঝুটিয়া গ্রামের ফসলের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে উচ্চফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ‘অরেঞ্জ সুইট’ জাতের গাজর চাষ করেছেন কৃষক আবদুর রহিম। তিনি জানান, তার ক্ষেত থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ মণ গাজর সংগ্রহ করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে তিনি লাভের মুখ দেখছেন। বাজারে প্রচলিত গাজরের তুলনায় এই জাতের গাজর দেখতে আকর্ষণীয় এবং স্বাদেও ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে এর চাহিদা বেড়েছে।
প্রদর্শনী প্লটটিতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব ফেরোমন ট্র্যাপ, যা বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফসল উৎপাদনে সহায়ক। জানা গেছে, গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে এই গাজরের চারা রোপণ করা হয়েছিল।
কৃষক মো. আবদুর রহিম বলেন,“কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতায় আমি ২০ শতাংশ জমিতে এই গাজর চাষ করেছি। ইতোমধ্যে প্রায় ১০ মণ গাজর বিক্রি করেছি। বিষমুক্ত হওয়ায় পাইকাররা ক্ষেত থেকেই গাজর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আমার এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও গাজর চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”
প্রদর্শনী প্লটটির তত্ত্বাবধানে থাকা ব্লক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তুষার সরকার বলেন,“শুরু থেকেই কৃষককে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জমিতে এখনো যে পরিমাণ গাজর রয়েছে, তাতে ফলনের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।”
নাগরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম রাশেদুল হাসান বলেন,“নাগরপুরের মাটি গাজর চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এখানে বাণিজ্যিকভাবে গাজর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে ‘অরেঞ্জ সুইট’ জাতের গাজর আরও বড় পরিসরে চাষের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
কৃষি বিভাগের আশা, এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়লে নাগরপুরে গাজর চাষ একটি সম্ভাবনাময় কৃষি খাতে পরিণত হবে এবং স্থানীয় কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.