
আখতার হোসেন খান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান যমুনার ভূঞাপুরে লৌহজং নদীর উৎসমুখ ১৯৭৯ সালে নিজ হাতে খনন করলেও বর্তমানে কোন কাজেই আসছেনা। যমুনা থেকে বালু উত্তোলনকারী বালু ব্যবসায়ীদের উৎসমুখ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে যমুনার শাখা নদী লৌহজং এখন মরা খাল। নেই নদীর বৈশিষ্ট্য, নেই স্রোত, নেই কুলুকুলু ধ্বনি। নদীর স্মৃতি বুকে ধারণ করে মরা খাল হয়ে বেঁচে আছে। এক সময়ের যমুনার এই শাখা নদী লৌহজং ছিলো ভরা যৌবন। উৎসমুখ ছিলো উপজেলার রামপুরে।
সেখানেই ১৯৭৯সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উৎসমুখ খনন করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনেন। এই নদী দিয়ে সিরাজগঞ্জ, সোহাগপুর, বেলকুচির সাথে ভূঞাপুর হয়ে মধুপুর, ঘাটাইল, গোপালপুর ও কালিহাতীর সাথে নৌপথে রমরমা ব্যবসা করা হতো। এছাড়া এই নদী পথে সোনালী আঁশপাটের নৌকা চলতো ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ। নদীটি গোপালপুরের বৈরান নদীর সাথে বরশিলা এবং ঘাটাইল ও কালিহাতীর বংশাই নদীর সাথে মিলিত হয়ে সখিপুর ও বাসাইলের ফটিকজানী নদীর সাথে মিলিত হয়ে গাজিপুর ও ঢাকার সাথে সংযোগ স্থাাপন করে নদী পথে ব্যবসা বাণিজ্যকে সমৃদ্ধ করেছিলো।
লৌহজং নদীর উৎসমুখ বর্তমানে উপজেলা বলরামপুর ও জিগাতলা। বালু ব্যবসায়ীদের বালু উত্তোলনের ফলে নদীর উৎসমুখ বন্ধ হয়ে যায়।ফলে ভরা বর্ষা মৌসুম ছাড়া নদীতে কানো পানি থাকেনা। এছাড়া ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আন্ত:জেলা মহাসড়কে লৌহ জং নদীতে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামছুল তালুকদার ছানু নদীটি সংকুচিত করে স্লুইজ গেইট নির্মাণের ফলে নদীটির গতি রোধ হয়ে দিন দিন তার বহতা হারিয়ে ফেলে এবং নদীটি গড়ে প্রায় ১ কিলোমিটার প্রশস্ত ছিলো।
নদীর গতি পথ বন্ধ কওে মাত্র ৪৪ ফুট স্লুইজ গেইট নির্মাণের ফলে নদীটি যৌবন হারিয়ে ফেলে। ফলে ভাটি অঞ্চলে পানি স্বল্পতা দেখা দেয়। যে সমস্ত জমি নদীর পলি মাটিতে উর্বর হতো, সে সব জমি পানি ও পলি মাটির অভাবে উর্বরা শক্তি হারাতে থাকে। বড় বড় ব্যবসায়িক পানসি নৌকা ও জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নদীর তীর কমে আসতে থাকে এই সুযোগে প্রভাবশালীরা নদীর তীর দখল করে নেয়। বন্ধ হয়ে যায় নদী পথ ও নদী পথে ব্যবসা বাণিজ্য। নদীটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে।
লৌহজং নদীটি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে বর্ষা কালে যমুনা নদীর গাইড বাঁধ হুমকির মুখে পড়ে। ইতোমধ্যে ২০১৯ সালে জুলাই মাসে ভূঞাপুর উপজেলার টেপি বাড়ি এবং ২০২২ ও ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার পিংনাতে গাইড বাঁধ অর্থাৎ টাঙ্গাইল- তারাকান্দি আন্ত: মহাসড়কটি ভেঙে যোগাযোগ বিছিন্ন এবং গোপালপুর, ঘাটাইল, কালিহাতী, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, সখিপুর, বাসাইল, গাজিপুরসহ বিভিন œএলাকা প্লাবিত হয়।
সেনা বাহিনীর সহযোগিতায় রাস্তা সাময়িক ভাবে সচল করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর গতি পথ ফিরিয়ে আনতে হলে নদীর উৎসমুখে খনন করে সংযোগের ব্যবস্থা এবং নদী ড্রেজিং করতে হবে। এছাড়া স্লুইজ গেইট ভেঙে সেখানে সেতু নির্মাণ করতে হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.