
সংবাদের আলো ডেস্ক: প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতিকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নিজের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, যারা তার চরিত্র হনন করেছেন, তিনি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রতিশোধ নয়, ক্ষমা ও নৈতিকতাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার পথ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই ঘোষণা দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে নানা আক্রমণ চালানো হয়েছে। নিজেকে একজন ‘আহত সৈনিক’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চারদিক থেকে তার দিকে ‘মিসাইল’ ছোড়া হলেও তিনি পাল্টা কোনো ‘অ্যান্টি-মিসাইল’ ছুড়বেন না।
তিনি বলেন, যারা সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমার চরিত্র হনন করেছেন, আমি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম। কারণ আমার রক্ত আর মেজাজের সঙ্গে প্রতিশোধ মানায় না।
সহকর্মীদের সামনে এই ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমা করার মধ্য দিয়েই একজন মানুষ ভবিষ্যতে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা পাওয়ার নৈতিক অধিকার অর্জন করে। প্রতিশোধের রাজনীতি সমাজে নতুন করে ঘৃণা ও সংঘাত তৈরি করে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশোধের যে সংস্কৃতি চালু আছে, তা সমাজ ও রাষ্ট্রকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই চক্র ভাঙতেই তিনি যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারা শুরু করতে চান— যেখানে প্রতিহিংসা নয়, বরং সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধই হবে মূল শক্তি।
বক্তব্যে তিনি ৪৭, ৭১ এবং ২৪-এর গণআন্দোলন ও বিপ্লব এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি পরিচ্ছন্ন ও নৈতিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে তারা সামনে এগোচ্ছেন। অতীতের রাজনৈতিক কালচার পেছনে ফেলে মেধা, উদ্ভাবন ও আদর্শনির্ভর নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জামায়াত আমীর বলেন, তার রাজনীতি কোনো একক দলের বিজয়ের জন্য নয়। তার ভাষায়, আমি জামাতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।
তিনি বলেন, গোষ্ঠী বা ব্যক্তি পরিবর্তনের রাজনীতি নয়, জনতার আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করাই তার রাজনীতির লক্ষ্য।
দলের ইশতেহার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং জনগণের সামনে দেওয়া একটি জীবন্ত দলিল। এতে মায়েদের সম্মান, শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ, কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এবং শিল্প ও শ্রমিকের পারস্পরিক ন্যায্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শিল্প টিকলে শ্রমিক টিকবে, আর শ্রমিক বাঁচলেই দেশের অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সততা ও দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ককপিটে যারা বসে আছেন, তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত ও নৈতিক অবস্থানের ওপরই বাংলাদেশ নামক বিমানটির নিরাপদ যাত্রা নির্ভর করে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.