
নুরুল ফেরদৌস লালমনিরহাট: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে মাইকিং, মিছিল, গণসংযোগ ও পথসভায় সরগরম হয়ে উঠছে পুরো নির্বাচনি এলাকা। প্রার্থীরা ঘুরছেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা।
ভোট যুদ্ধে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী, সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, তবে পিছিয়ে নেই বাকিরাও। তবে বিএনপি’র মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর প্রচারণায় যোগ হয়েছে ব্যতিক্রম মাত্রা। প্রচার প্রচারণা গণ সংযোগে নেমেছে ভিক্ষুকরাও। তাঁরা আলাদা আলাদা ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে দুলুর প্রচার-প্রচারণা গণসংযোগের ব্যতিক্রম মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্বাচনি উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে ধানের শীষের পক্ষে।
ভোটযুদ্ধে বিজয়ী করার জন্য তার ছেলের পাশাপাশি প্রচারে নামেন তার স্ত্রী, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি লায়লা হাবিব। তিনি বেশকিছু দিন ধরে প্রচারণা শুরু করেছেন। নারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে আলাদাভাবে প্রচারণা চালান। আবার কখনো দুলুর সঙ্গেই জনসভার মঞ্চে থেকে বক্তব্য দিচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক ছাড়াও পথসভায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি প্রচারণা বক্তব্য দেন। আসাদুল হাবিব দুলু একদিকে প্রচারণার গেলে, অন্যদিকে যাচ্ছেন স্ত্রী লায়লা হাবিব।
লালমনিরহাট তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্য( সদর) উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে,লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসন গঠিত। যা সংসদীয় আসন ১৮।
(সদর) ৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭ হাজার ৯৭০জন। তারমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ১৬৭ জন আর নারী ভোটার ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৮০১ জন।
এ আসনের ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ্যাড. আবু তাহের (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপি’র অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির জাহিদ হাসান লিমন (লাঙ্গল), কমিউনিস্ট পার্টির এ্যাড, মধুসুদন রায় (কাস্তে), গণসংহতি আন্দোলন দীপক কুমার রায় (মাথাল), বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন আমিনুল ইসলাম (হাতপাখা)।
এসব প্রার্থীর মধ্যে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকের হেভিওয়েট প্রার্থী, সাবেক উপমন্ত্রী, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপমন্ত্রী ছিলেন। সেই সময় ১৩ টি অপরাধ মুক্ত আলোকিত লালমনিরহাট গঠনের রুপকার হিসেবে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু একজন সুপরিচিত প্রার্থী। গণসংযোগকালে তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও ন্যায়ের পক্ষে আমি নির্বাচনে নেমেছি। ( তিন আসনের) মানুষ এবার ধানের শীষের পক্ষেই রায় দেবে বলে আমি আশাবাদী। এ আসনের মানুষ ধানের শীষ কে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে আসনটি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে উপহার দিবে বলে আমি আশা করি।
এদিকে জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সভাপতি এডভোকেট আবু তাহের তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন রয়েছেন। প্রচারণায় তিনি বলেন,ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস মুক্ত এবং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি। জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রাখবে বলে বিশ্বাস করি।
এছাড়া, জেলা জাতীয় পার্টি সাধারণ সম্পাদক, জাহিদ হাসান ( নাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তিনিন একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন- করার লক্ষ্যে কাজ করব, এবং এ আসনের মানুষ নাঙ্গল মার্কা কে ভালোবেসে ভোট দিবে।
এদিকে ভোটাররা বলছেন, তারা যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চান।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সবমিলিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা দিন দিন বাড়বে। শেষ পর্যন্ত কারা ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারেন- সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো সদর উপজেলার মানুষ।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.