
সংবাদের আলো ডেস্ক: দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে নারীরা অপমানের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
রবিবার দুপুরে জামালপুর শহরের সিংহজানী স্কুল মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কিছু জায়গায় আমাদের মায়েরা ভোট চাইতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাঁদের অপমান করছে। মায়েদের কি ভোট চাওয়ার অধিকার নেই? যারা মায়ের গায়ে হাত তোলে, তারা কোন প্রজাতির মানুষ—আমি বুঝতে পারি না।’ তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বক্তব্য জনগণের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা উচিত। নারীদের অপমান কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘যদি কেউ কটু কথা বলে, মায়েরা চোখে চোখ রেখে বলবেন—আমি মা, আমি আল্লাহকে ভয় করি, কাউকে নয়।’
নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল সংস্কার ও গণভোট নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে চাইছে না। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা ১৮ কোটি মানুষের সামনে স্পষ্ট করে বলছি—সংস্কারে হ্যাঁ, গণভোটে হ্যাঁ। অন্যরা কেন লুকিয়ে কথা বলছে? তারা হ্যাঁ না—কোনটা, সেটা পরিষ্কার করে বলুক।’
ডা. শফিকুর রহমান এবারের নির্বাচনকে ‘পরিবর্তনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই নির্বাচন বহু শহীদের রক্ত ও আহত মানুষের ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু ক্ষমতার নির্বাচন নয়, এটি জনগণের আশা–আকাঙ্ক্ষার নির্বাচন।’
যুবসমাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতের প্রায় ৬২ শতাংশ কর্মী তরুণ। ‘আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করতে চাই না। আমরা চাই কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে,’ বলেন তিনি।
জনসভার শেষ পর্যায়ে তিনি জামালপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
জামালপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল আওয়ালের সঞ্চালনায় এবং জামালপুর–৫ আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. ছামিউল হক ফারুকী ও ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.