
সংবাদের আলো ডেস্ক: দীর্ঘ ২১ বছর পর, কুমিল্লা সফরে আসছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) কুমিল্লার মাটিতে তিনটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিবেন তিনি। এর মধ্যে বিকেল সাড়ে ৫টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে, সন্ধ্যা ৭টায় সদর দক্ষিণের সুয়াগাজীর ফুলতলী ‘ডিগবাজি’ মাঠে ও সাড়ে ৮ টায় দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তিনি বক্তব্য রাখবেন।
এদিকে, তারেক রহমানের এই আগমন ঘিরে কুমিল্লা জেলাজুড়ে দলের নেতাকর্মী, সমর্থক থেকে শুরু করে আপামর সাধারণ মানুষের মাঝেও উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। পুরো জেলা ছেয়ে গেছে ব্যানার, ফেষ্টুন ও তোরণে।
সমাবেশ স্থলের আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তারেক রহমানের আগমন কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও তৎপর রয়েছেন।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাদা-পোশাকের সদস্যরাও নিয়োজিত থাকবে এবং গোয়েন্দা তৎপরতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জানা যায়, প্রায় দুই দশক আগে ২০০৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা স্টেডিয়ামে তৃণমূল বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি সভায় এসেছিলেন তারেক রহমান। ওইসময় তিনি দলের যুগ্ম সিনিয়র মহাসচিব ছিলেন। কুমিল্লার ওই প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। ওই প্রতিনিধি সভায় কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৫২টি ইউনিয়নের প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন।
পরে সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তারেক রহমান বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আপনারাই সরকার, আপনারাই রাষ্ট্র, আপনারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই দল আপনাদের পরামর্শকেই মূল্যায়ন করে থাকে।’
দুই দশক পর জাতীয় নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কুমিল্লায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এ রাজনৈতিক সফর অর্থবহ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলীয় সূত্র জানায়, আগামীকাল রবিবার সকালে প্রথমে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান।
সেখান থেকে ফেরার পথে প্রথমে তারেক রহমানের দুপুরের পর প্রথমে নানার বাড়ি ফেনী ও পরে বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, এরপরে সদর দক্ষিণের সুয়াগাজী এবং সর্বশেষ দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠসহ তিনটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। সফরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে বলেও জানান জেলা নেতৃবৃন্দ।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনের খবরে জেলাজুড়ে নেতাকর্মী, সমর্থকদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। আগামী নির্বাচনে কুমিল্লার সবকটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জয়ী করতে আমরা এই উদ্দীপনাকে কাজে লাগাবো এবং ইনশাল্লাহ বিএনপির দুর্গ হিসেবে কুমিল্লা এবারো প্রমাণ রাখবে।’
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যানের এই সফর কেবল কুমিল্লাই নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।’
বিএনপি চেয়াম্যানের উপদেষ্টা ও কুমিল্লা দক্ষিণের ৬টি নির্বাচনী আসনের সমন্বয়ক হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেন, ‘প্রিয় নেতা তারেক রহমানের আগমনের খবরে কুমিল্লাার ১১টি আসেনে উচ্ছ্বাস, আনন্দের জোয়ার বইছে। আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। নেতাকর্মী, সমর্থক ও আপামর মানুষ তারেক রহমানের বক্তব্য শোনার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের বক্তব্য আসন্ন নির্বাচনের এ অঞ্চলে ভোটের মাঠে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নেতাকর্মী, সমর্থকরা আরও উজ্জীবিত হয়ে কেবল দক্ষিণ কুমিল্লার ৬টি নয়, উত্তরের ৫টি আসনেও জয়ের জন্য কাজ করবে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যেকোনো সময়ের তুলনায় কুমিল্লার বিএনপি এখন খুবই শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ।’
এদিকে, তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে বিশাল মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। মঞ্চের আশেপাশে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে দেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা। একই চিত্র সুয়াগাজী ও দাউদকান্দিতেও। দলীয় নেতাকর্মীরা শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি পরিদর্শন করছেন সার্বক্ষণিক। এছাড়াও, দলীয় নিরাপত্তা টিম ছাড়াও সেখানে সিএসএফসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীরাও নিরাপত্তা দিবেন বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে আজ তারেক রহমানের আগমনে কুমিল্লার বিএনপিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.