
সংবাদের আলো ডেস্ক: সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের ওপর ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের দমন-পীড়নের জেরে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে পরিকল্পনা নিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল ২১ জানুয়ারি মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে সাক্ষাৎকার দেন তিনি। এ সময় সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সাংবাদিক জোয়ে কেরনেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, “ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। সেখানে কি মর্কিন সামরিক পদক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা আছে আপনার, জনাব প্রেসিডেন্ট?”
জবাবে ট্রাম্প জানান, “না, আমি আশা করছি যে ভবিষ্যতে (ইরানের বিরুদ্ধে) কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। আপাতত এটা স্থগিত করা হয়েছে। তারা সড়কে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে— এটা আমার কাছে বড় ব্যাপার, তবে এ ও সত্য যে তারা ৮৩৭ জনের ফাঁসির দণ্ড রদ করেছে। এই ৮৩৭ জনের অধিকাংশই তরুণ প্রজন্মের।”
জীবনযাত্রার ব্যয় ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় ইরানে। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দেশটির ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে।
বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে ইরান, সেই সঙ্গে দেশজুড়ে পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করে সেনাবাহিনী।
ইরানে বিক্ষোভের শুরু থেকেই ট্রাম্প দেশটিতে সামরিক অভিযানের হুমকি দিচ্ছিলেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের একাধিক পোস্টে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, “সাহায্য আসছে।”
এর মধ্যেই বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তার প্রায় ৯০০ আন্দোলনকারীকে দ্রুত বিচার আইনে ফাঁসির দণ্ড দেয় ইরানের বিচার ব্যবস্থা। ট্রাম্প হুমকি দেন— যদি দণ্ড কার্যকর করা হয়, তাহলে ‘নরক’ নেমে আসবে ইরানের ওপর।
তার সেই হুমকিকে আমলে নিয়ে এই আন্দোলনকারীদের ফাঁসি স্থগিত করে ইরান। সে সময় দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
সূত্র : ইরান ইন্টারন্যাশনাল
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.