
নুরুল ফেরদৌস, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রকল্পের আওতায় সড়ক পুনর্নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মানহীন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহুলী বাজার থেকে নামুড়ীহাট পর্যন্ত প্রায় ৯০০ মিটার সড়কের পুনর্নির্মাণ কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সড়কের বেস নির্মাণে নাম্বারবিহীন ও নিম্নমানের ইটের খোয়া (রাবিশ) ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা একাধিকবার বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, এ কাজে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর নীরব ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প-এর আওতায় নামুড়ীহাট থেকে দুহুলী বাজার পর্যন্ত ৯০০ মিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শান ট্রেডার্স। দরপত্র বিজ্ঞপ্তি নম্বর ০৫/২৫-২৬ অনুযায়ী প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ৭৫ লাখ ২৪ হাজার ৬৯০ টাকা।
কাজ শুরু হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং নির্ধারিত সমাপ্তির তারিখ ৩১ মার্চ ২০২৬। তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত সময় থাকা সত্ত্বেও দায়সারা ও নিম্নমানের কাজ করে দ্রুত প্রকল্প শেষ করার চেষ্টা করছেন ঠিকাদার মশিউর রহমান।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হাবিব মিয়া অভিযোগ করে বলেন,নিম্নমানের ইটের খোয়া বিছিয়ে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। এতে অল্পদিনের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। আগের মতো আবার আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে। আমরা বাধা দিলেও কেউ কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।
গত সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সে সময় সড়ক কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশল দপ্তরের দুইজন সহকারী কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও তাদের সামনেই অবলীলায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সড়ক কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা কালীগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো.সাইমন এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মশিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ প্রসঙ্গে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.