
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত হাজারী গুড় তৈরীর একমাত্র প্রসিদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মজমপাড়া এলাকায় রস ছাড়াই তৈরি হচ্ছে ভেজাল খেজুর গুড়। চিটাগুড়সহ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর অন্যান্য উপাদান দিয়ে তৈরি এসব ভেজাল গুড় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ এলাকার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্বে) আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে একটি আভিধানিক দল।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে এই অভিযান পরিচালিত চালিত হয়। এ সময় গুড় তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম, চুলা, চিটাগুড় এবং প্রায় ১০ কেজি ভেজাল গুড় ধ্বংস করা হয়।
ভেজাল গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হরিরামপুর উপজেলার মজমপুর গ্রামের বাসিন্দা কোকিল উদ্দিনের স্ত্রী জানান, দুই ছেলে ভরণপোষন না করায় বৃদ্ধ স্বামীকে নিয়ে সংসার চালাতে বাধ্য হয়েই মাঝে মাঝে রস ছাড়া গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করি।
তিনি অকপটে ভেজাল গুড় পরী তৈরীর কথা স্বীকার করেন। ছেলেরা ঠিকমতো ভরণ পোষণ করলে এই কাজ ছেড়ে দেবেন বলেও অঙ্গীকার করেন ৬০ বছর বয়সী ওই গৃহবধূ।
এদিকে, বাবা-মাকে নিয়মিত ভরণপোষনের আশ্বাস দিয়ে কোকিল উদ্দিনের ছেলে হৃদয় হোসেন বলেন, “আমার মা-বাবা আলাদা সংসারে থাকেন। আমি স্ত্রী নিয়ে আলাদা থাকি। এখন থেকে আমি নিয়মিত মা-বাবার ভরণপোষন দিব। আমার মা আর ভেজাল গুড় তৈরি করবেন না।”
এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, “খেজুরের রস না থাকলেও কোকিল উদ্দিন নিয়মিত প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কেজি করে গুড় তৈরি করতেন। ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার উদ্দেশ্যেই এসব গুড় তৈরি করা হচ্ছিল। অভিযানে আমরা গুড় তৈরির সরঞ্জাম, চিটাগুড় ও প্রায় ১০ কেজি ভেজাল গুড় ধ্বংস করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভেজালবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।”
তিনি বলেন, অভিযুক্তরা ৫ কেজি চিনির সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ কেজি ঝোলা গুড় ও পানি মিশিয়ে ভেজাল খেজুরের গুড় তৈরির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়িত না হওয়ার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
অভিযানকালে জেলা কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি সামসুন্নবি তুলিপসহ আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে ভেজাল গুড় তৈরীসহ ভেজাল বিরোধী অভিযান জনস্বার্থে অব্যাহত থাকবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.