
খালিদ হাসান, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: এক সময় গ্রামবাংলার পরিচিত দৃশ্য ছিল খোলা আকাশের নিচে, বড় কোনো গাছের ছায়ায় বা রাস্তার ধারে মাটিতে বসে চুল কাটার দৃশ্য। কাঠের ছোট টুল, আয়না আর কাঁচি নিয়ে নাপিতের সেই ভূমিকা ছিল গ্রামের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু কালের বিবর্তন ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।
বর্তমানে গ্রাম থেকে শহর সবখানেই দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আধুনিক সেলুন ও বিউটি পার্লার। আরামদায়ক চেয়ার, উন্নত যন্ত্রপাতি, স্টাইলিশ কাটিং ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছে। ফলে মাটিতে বসে চুল কাটার সেই সাদামাটা চিত্র ক্রমেই অতীতের পাতায় ঠাঁই নিচ্ছে। বয়স্ক নাপিতরা জানান, আগের দিনে প্রতিটি গ্রামে ২-৩ জন নাপিত থাকত, যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিংবা হাটের ধারে বসে চুল কাটতেন। এতে গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠত।
এখন নতুন প্রজন্ম সেই পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। অনেকেই পেশা বদল করে শহরমুখী হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “মাটিতে বসে চুল কাটার মধ্যে একটা আপন ভাব ছিল। গল্প করতে করতে চুল কাটা শেষ হতো। এখন সবকিছু যান্ত্রিক হয়ে গেছে।” বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি যেমন জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি গ্রামীণ অনেক ঐতিহ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। মাটিতে বসে চুল কাটাও তারই একটি উদাহরণ।
তবুও কিছু এলাকায় এখনো হাতে গোনা কয়েকজন নাপিত সেই পুরনো প্রথা ধরে রেখেছেন। তারা চান, নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহ্যকে মনে রাখুক এবং গ্রামবাংলার এই নিভৃত সংস্কৃতিকে সম্মান জানাক। সময় বদলালেও, হারিয়ে যাওয়া এই চিরচেনা দৃশ্য গ্রামীণ জীবনের ইতিহাসে এক নীরব স্মৃতিচিহ্ন হয়ে রয়ে যাবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.