
এস এম বাবুল আক্তার, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা দুম্বার মাংস বন্টনে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনসহ ইউএনও'র বিরুদ্ধে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে। গত ৩১ অক্টোবর ছুটির দিন শুক্রবারে তড়িঘড়ি করে ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১০-১১ মণ মাংস উপজেলা প্রশাসনের পছন্দমত ব্যক্তি, মাদ্রাসা, আনসার ক্যাম্প, ডরমেটরি,উপজেলা ও পৌরসভায় কর্মরতদের মাঝে বিলিবন্টন করা হয়।
এতে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে পার্শ্ববর্তী এতিমখানা, মাদ্রাসাসহ অসহায় দরিদ্রদের মাঝে। ইউএনও'র পক্ষ থেকে একটি লিস্ট প্রকাশ করা হলেও সেখানে রয়েছে নানা অসংগতি। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের জন্য ১৬ কার্টুন দুম্বার মাংস আসে।
প্রতি কার্টুনে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের ১০ টি প্যাকেট ছিল। যার আনুমানিক ওজন ছিল প্রায় ১০ থেকে ১১ মণ। সেদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পছন্দমত বিভিন্ন মাদ্রাসা, অচেনা নামধারী ৩০ জন ব্যক্তি, আনসার ক্যাম্প, ডরমেটরিসহ উপজেলা ও পৌরসভার বেশ কিছু ব্যক্তির মাঝে দুম্বার মাংস ভাগ বাটোয়ারা করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের না ডেকে অনেকটা গোপনে দ্রুততার সাথে বন্টন করা হয়। জানা যায়, ইউএনও রফিকুল ইসলামের নির্দেশনায় পিআইও অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও উপজেলা পুরাতন মসজিদের ইমাম রফিকুল ইসলাম ভাগ বাটোয়ারায় অংশ নেন। ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠলে উপজেলা ব্যাপী জনমনে তীব্র ক্ষোভেট সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিন্দার ঝড় উঠে।
তৎক্ষণাৎ ইউএনও রফিকুল ইসলাম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে দুম্বার মাংস ৩৫ টি এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দেয়ার কথা বলেন। শনিবার সরেজমিনে গিয়ে ২৫ থেকে ২৭ টি মাদ্রাসায় স্বল্প পরিমাণে মাংস দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। অনেক তালবাহনার পর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক যে তালিকা প্রদান করা হয়েছে, সেখানেও তথ্যের বেশ অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। কোন কোন মাদ্রাসায় মাংস না দিয়েও তাদের নাম লেখা হয়েছে।
আবার কোনটায় দিয়েছে কম, লিখেছে বেশি। এরমধ্যে অস্তিত্বহীন মাদ্রাসার নামের তথ্যও উঠে এসেছে। মাদ্রাসা গুলোতে মাংস দেওয়ার পরিমাণের সাথেও তালিকায় উঠে আসা পরিমাণের ব্যাপক হেরফের রয়েছে।এছাড়াও মাংস বিতরণের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি লক্ষ্য করা গেছে। জরিনা খাতুন নামের ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা বলেন, গত শুক্রবার দুম্বার মাংস এসেছে শুনে আমি সেখানে যাই। গিয়ে দেখি সব ফাঁকা।
সম্ভবত তারা ভেতরেই ভাগ বাটোয়ারা করেছে।গরিবের হক বড়লোক খেয়েছে। এই বিচার আল্লাই করবে। উপজেলার মাহমুদিয়া কওমী মাদ্রাসার মুহতামিম হাবিবুল্লাহ বেলালী বলেন, আমার মাদ্রাসায় দিয়েছে এক প্যাকেট, প্রকাশিত তালিকায় লিখেছে বেশি। এরকম অনেক মাদ্রাসাতেই দিয়েছে কম, লিখেছে বেশি।
কাঠেরপুলের জামিউল হুদা মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আব্দুর রউফ বলেন, আমার মাদ্রাসায় কোন দুম্বার মাংস আসেনি। অথচ প্রকাশিত তালিকায় আমার মাদ্রাসা সহ আরও বেশ কয়েকটা মাদ্রাসা দেখলাম, যাদের কাছেও দুম্বার মাংস যায়নি। এটাকে ইসলামের ভাষায় জুলুম বলে।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি সঠিকভাবে দুম্বার মাংস বিতরণের জন্য বলেছি।আর আমি নিজেও দুম্বা উটের মাংস খাই না। এ সময় সাংবাদিকরা আনসার ক্যাম্প,ডরমেটরি কে মাংস দেওয়ার বিষয়ে বললে তিনি বলেন, তারা তো গরিব, পেতেই পারে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.