
নুরুল ফেরদৌস লালমনিরহাট: কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত কিশোরী ফেলানীর ভাই ছোট ভাই আরফান হোসেন (২১) বিজিবির চাকুর পেলেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে তিনি লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর আয়োজিত নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন।
বৃহস্পতিবার লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মেহেদী ইমাম পিএসসি তার হাতে নিয়োগ পত্র তুলে দেন। এ ব্যাপারে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম , বলেন, "বিজিবি সর্বদা ফেলানীর পরিবারের পাশে রয়েছে। ফেলানীর ছোট ভাই অত্র ব্যাটালিয়নে অনুষ্ঠিত বিজিবি সদস্য পদে নিয়োগ পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু করবেন।
আমরা আশা করি, প্রশিক্ষণ শেষ করে তিনি একজন যোগ্য বিজিবি সদস্য হিসেবে দেশমাতৃকার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন। তিনি আরও বলেন, "সীমান্তে ফেলানী হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে আর না ঘটে সে বিষয়ে বিজিবি সর্বদা সীমান্তে অত্যন্ত সতর্ক ও সচেষ্ট রয়েছে।
নিহত ফেলানীর ভাই আরফান চাকুরী পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন আমার বোনকে বিএসএফ অন্যায় ভাবে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় আমাদের পরিবার ভেঙে পড়ে, এসময় বিজিবি আমাদের পরিবারের পাশে থেকে আমার বাবাকে একটি দোকান করে দেয়। সেই দোকানের আয় থেকে আমাদের তিন ভাই দুই বোনের পড়া শোনা চলছে। আমি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বিজিবির সকল নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত হই। পরবর্তী সবাই জানে আমি সেই ফেলানীর ছোট ভাই। আগামীকাল আমি ট্রেনিং সেন্টারে রওনা করব, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন দেশ মাতৃকার জন্য কাজ করতে পারি।
উল্লেখ্য,২০১১ সালের ০৭ই জানুয়ারি কুড়িগ্রাম জেলার ফু্লবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর ফুলবাড়ী-চৌধুরীহাট (ভারত-বাংলাদেশ) সীমান্তে হত্যা করে লাশ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রেখেছিল বিএসএফ। এ ঘটনাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.