
আব্দুল আওয়াল আলিফ, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের ক্যামলং পাড়ার ওপর নির্মিত একটি সেতু ভেঙে পড়ায় মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছে আশপাশের কয়েকটি গ্রামবাসী। ২০২৩ সালে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সেতুটি ডেবে গিয়ে অর্ধেক অংশ ধসে যায়।
তারপর থেকে প্রতিদিন স্থানীয় মানুষজন এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে ব্রিজের ওপারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুরা, যাদের প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে।
২০২৩ সালে ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে এ সেতুর একপাশে ভেঙে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দেয়। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় কুহালং ইউনিয়নের অন্তত পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী প্রতিদিন বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে ক্যামলং পাড়ার বাসিন্দা শৈলুমং মারমা দৈনিক নীলগিরি কে বলেন,২০২৩ সালের সেতুটি ধসে যাওয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো সংস্কারের কাজ হয়নি। আমাদের মনে হয় সরকার আমাদের সঙ্গে অবিচার করছে।”
ক্যামলং পাড়া, ভাঙ্গামুড়া পাড়া, বড়ুয়া পাড়া, মারমা পাড়া, ডলু পাড়া, চেমীর মুখ ও গোয়ালিয়া খোলাসহ আশপাশের গ্রামগুলো মিলে বেশ কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই সেতুটি। শুধু মানুষ নয়, কৃষিপণ্য, ফলমূল ও শাকসবজিও এই পথ দিয়েই জেলা সদর থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকায় গ্রামীণ জনজীবনে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
অন্য বাসিন্দা লিয়াকত আলী জানান, “আমরা প্রতিদিন সিএনজি কিংবা জীপে করে ভাঙা সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করি। তবে এতে জীবনের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। বৃষ্টির দিনে দুপাশে কাদা জমে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা আরও দ্বিগুণ বেড়ে যায়।”
পথচারী মো. মনির হোসেন জানিয়েছেন, “সেতুটি ধসে যাওয়ায় আমাদের দুই প্রান্ত অতিক্রম করতে আলাদা আলাদা গাড়ি ভাড়া নিতে হয়। এতে খরচ অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর গাড়ি না পাওয়া গেলে পথচারীদের কষ্ট ও অসুবিধা আরও বেড়ে যায়।”
স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য উনাই চিং মারমা জানিয়েছেন, “আমরা বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের সভায় এ বিষয়টি উত্থাপন করেছি। তবে পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে গেলেও এখনও কোনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি।”
উনাই চিং মারমা আরও জানান, “ফলে এলাকাবাসীর হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে, পাশাপাশি যাতায়াত ব্যয় ও দুর্ভোগ প্রতিদিনই নতুনভাবে বেড়েই চলেছে।”
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.