সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির আতঙ্ক: চর ঘিওরের মানুষ চান্দুর ভয়ে দিশেহারা
রিফাত স্টাফ রিপোর্টার: মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার চর ঘিওর গ্রামে একের পর এক শালিস বৈঠককে কেন্দ্র করে দাঙ্গা, হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সাথে জড়িত শহিদুল ইসলাম চান্দু এবং তার অনুসারীদের কারণে সাধারণ মানুষ দিন দিন অসহায় হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিন উদ্দীন ও নাজিম উদ্দীন নামে দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য মাতাব্বরদের মাধ্যমে শালিস বৈঠক বসানো হয়। তবে শালিস চলাকালে নাজিম উদ্দীনের আত্মীয়-স্বজন হামলার ঘটনা ঘটিয়ে বৈঠক ভণ্ডুল করে দেন। একাধিকবার শালিস বৈঠকে হামলার অভিযোগ ওঠে নাজিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রাম্য মাতাব্বররা ঘোষণা দেন, আমিন ও নাজিমকে সমাজচ্যুত করা হবে।
কিন্তু এখানেই থেমে থাকেনি। নাজিম উদ্দীনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত শহিদুল ইসলাম চান্দু ও তার বাহিনী গ্রামবাসীর ওপর ভয়-ভীতি, চাঁদাবাজি এবং হুমকি প্রদানের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চান্দু রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপি—এই দুই পরিচয় ব্যবহার করে নিজের আধিপত্য বিস্তার করছেন।
গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, চান্দুর ছেলে পিয়াস অতীতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হিসেবে এলাকায় চাঁদাবাজি করতো। পরবর্তীতে চান্দু নিজেই বিএনপির ঘিওর উপজেলা কৃষকদলের ৩ নং সহ-সভাপতি পদে জায়গা করে নেন। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকাকালে ছেলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালালেও বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে চান্দু বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
চর ঘিওরের সাধারণ মানুষের দাবি, চান্দুর মতো সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দলে রাখা হলে বিএনপির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে চান্দুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
একই সঙ্গে এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে, চান্দুর হাত থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হোক এবং গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।