সোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন 

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরে সরিষাবাড়ীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোঃ আমজাদ হোসেন আর নেই। ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)  তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন এবং অসামান্য অবদান রেখেছেন। আমজাদ হোসেন  ৩১ আগস্ট ঢাকায় সিএম এইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

সোমবার ( ১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডোয়াইল ইউনিয়নের ডিগ্রিবন্ধ এলাকায় নিজবাড়ীতে  রাষ্টীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে  মরণোত্তর সম্মান ও মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।  মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। তার মৃত্যুতে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

জানা যায়, আমজাদ হোসেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে ছুটিতে দেশে এসে পাকিস্তানে ফিরে না গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি প্রথমে সিগন্যাল ও কমিউনিকেশন অপারেশন এর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

পরবর্তীতে তিনি মহেন্দ্রগঞ্জ ও কামালপুর এবং সিলেট সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন ক্যাম্পে মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে ফোর্ট উইলিয়ামে বন্দী রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীর সুপারিশে তিনি মুক্তি পান। তিনি কামালপুর সীমান্তে সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি সৈন্যদের পরাজিত করতে অসামান্য সাহসিকতার পরিচয় দেন। এ ঘটনাটি সে সময়কার দৈনিক “দ্য ডন” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরে যোগদান করেন এবং ১৫ বছর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। তিনি ১৯৮৬ সালে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২য় সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন হতে অবসর গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হতে বর্ণাঢ্য চাকুরী শেষে, অত্যন্ত সম্মানের সাথে অবসর গ্রহণের পর তিনি বাংলাদেশ ডাক বিভাগে সাত বছর কর্মরত ছিলেন। তিনি জীবদ্দশায় ১৯৭১ সালের পূর্বে ৫টি [ক্লাপস কাশ্মীর, সিতারা হারব, রান অব কচ, নিরাপত্তা পদক ও তগমা ই জং ]

এবং স্বাধীনতার পর আরও ৫টি পদক [সমরাভিযান তারকা, সমর পদক, স্বাধীনতা তারকা, জয় পদক ও সংবিধান পদক] অর্জন করেন। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ আমজাদ হোসেন পেশাগত জীবনে অত্যন্ত সফল দুই পুত্র ও তিন কন্যাসন্তানের জনক। তাঁর বড় ছেলে জনাব মোঃ মাহবুবুর রহমান আমেরিকার ফ্লোরিডায় স্থায়ী নাগরিক  স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

বড় মেয়ে আলেয়া আক্তার অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধরি এবং বর্তমানে সরকারী তিতুমীর কলেজের অধ্যাপক (১৪তম বিসিএস), দ্বিতীয় মেয়ে আসমাউল হুসনা পরিসংখ্যানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং বর্তমানে একটি স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন, তৃতীয় মেয়ে উম্মে কুলসুম অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মরত, ছোট ছেলে  ড. মোঃ মামুনুর রশীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর বড় মেয়ের জামাতা আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে রিয়ার অ্যাডমিরাল পদে, দ্বিতীয় মেয়ের জামাতা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে এবং তৃতীয় মেয়ের জামাতা সৈয়দ রাশেদ আল জায়েদ বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর বড় ছেলের পুত্রবধূ জেবুন্নেসা বেগম স্নাতক ডিগ্রিধরি এবং ছোট ছেলের পুত্রবধূ নাহার সুলতানা একজন ডক্টরেট ডিগ্রিধারী এবং আমেরিকাল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি)-তে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত রয়েছেন।   ব্যক্তিগত জীবনে জনাব মোঃ আমজাদ হোসেন ছিলেন অত্যন্ত সৎ, সামাজিক ও সাহায্যপ্রবণ মানুষ। তাঁর সততা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ তাঁকে সবার কাছে একজন প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়