
সঞ্জিত চক্রবর্তী, পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহর উপজেলার জারদিস মোড় থেকে হান্ডিয়াল হয়ে বাঘলবাড়ি পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে এক জোরালো মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ সড়কের নয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘চেতনায় হান্ডিয়াল’।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার অবস্থার এতটাই অবনতি হয়েছে যে খানাখন্দে ভরে গেছে পুরো পথ। বৃষ্টি হলে ওইসব গর্তে জমে থাকা পানি রীতিমতো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে, বিশেষ করে অসুস্থ মানুষ বা প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নিতে গেলে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
যানবাহন চালকরা নিয়মিত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, কারণ রাস্তায় বারবার গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা জানান, এই সড়ক দিয়েই চাটমোহর থেকে ঢাকায় যাতায়াতের সবচেয়ে কম দূরত্বের পথটি নিশ্চিত হয়। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বছরের পর বছর অবহেলিত থাকায় এলাকার লাখো মানুষ আজ চরম ভোগান্তিতে। চাটমোহর সদর, হান্ডিয়াল ও গুনাইগাছা সহ পাবনার হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত এই রাস্তা ব্যবহার করে থাকেন।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তাটি মেরামতের জন্য একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এর আগে কয়েকবার সামান্য সংস্কারের চেষ্টা হলেও বর্ষার অজুহাতে কাজ ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে ঠিকাদার। এতে মানুষের মনে এখন ক্ষোভ, হতাশার জন্ম নিয়েছে।
” মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন চেতনায় হান্ডিয়াল সংগঠনের আহ্বায়ক কেএম বেলাল হোসেন স্বপন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সরকারি কলেজের অধ্যাপক জাকির হোসেন। বক্তব্য রাখেন পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশী হাসানুল ইসলাম রাজা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম কালু, মানববন্ধন আয়োজক উপ-কমিটির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম। বক্তারা একমাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেন, “আমরা চাই এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুক।

অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি, সড়ক অবরোধ, অবস্থান ধর্মঘটসহ লাগাতার আন্দোলনের পথে আমরা যেতে বাধ্য হব।” এলাকাবাসীর ভাষ্য, এই দাবির পেছনে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ নেই এটি সম্পূর্ণভাবে জনদুর্ভোগের ভিত্তিতে সংগঠিত একটি ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের একটাই প্রশ্ন: “আর কত দুর্ঘটনা হলে সংস্কার হবে এই পথ?” এ বিষয়ে পাবনার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এম আজিজ বলেন, যে ঠিকাদারের গাফিলতিতে এই জনদুর্ভোগ সে যাতে উপযুক্ত শাস্তি পায় সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত সুপারিশ করা হয়েছে।
আগের ঠিকাদারকে বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সড়কটির সংস্কার দ্রুত শুরু করা হবে। জনদুর্ভোগ যাতে আর না হয় সে বিষয়ে আমরা আন্তিরকভাবে কাজ করছি। ইতিমধ্যে সড়কটির প্রাথমিক মেরামত কাজ চলমান রয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.