সোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

সরেজমিন গঙ্গাচড়া: মাইক দিয়ে লোক জড়ো করে বিক্ষোভ, সেখান থেকেই হামলা

কল্লোল রায়: দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর গ্রাম। গত ২৬ জুন রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহানবী (সা.) কে কটুক্তির অভিযোগে ওই গ্রামের রঞ্জন রায়(২০) নামের এক কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রঞ্জন রায় ওই গ্রামের সুজন রায়ের ছেলে এবং একটি বেসরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। ওই কিশোরের গ্রেফতার হওয়ার আগে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শনিবার(২৬ জুন) রাতেই দুই দফা রঞ্জন রায় ও তার কাকা কেশব রায়ের বাড়িতে হামলা করে উত্তেজিত জনতা। পরদিন (রবিবার) বিকেল ৩ টার দিকে প্রায় ২ হাজার লোকের একটি মিছিল ওই গ্রামে আসে। বিকেল ৪ টার দিকে অভিযুক্ত কিশোর রঞ্জন রায়ের বাড়িসহ প্রতিবেশীদের বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে ১৫টি পরিবারের মোট ২২ টি ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। তাদের মধ্যে ৫ টি পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার দুইদিন পর(মঙ্গলবার) ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পল্লীটি ঘুরে এই প্রতিবেদক। সরেজমিনে ভুক্তভোগী ও গ্রামের অন্যন্য লোকজনের সাথে কথা বলে ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ভৌগলিক অবস্থানের দিক দিয়ে গ্রামটি রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের সীমান্তে অবস্থিত। গ্রামটির পাশের এলাকা নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়ন। সেই হিসেবে গঙ্গাচড়া উপজেলার আলদাদপুর গ্রামের পাশে অবস্থিত কিশোরগঞ্জ উপজেলার ফুলেরহাট গ্রাম। বেতগাড়ি ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের আলদাদপুর গ্রামের অধিকাংশ (প্রায় ৯৫ ভাগ) মানুষ সনাতন ধর্মালম্বি ও পরিবারগুলো মূলত কৃষিনির্ভর। গ্রামটিতে মন্দির ১২ টি এবং মসজিদ রয়েছে ৩টি। ঘটনার সূত্রপাত ঘটনার সূত্রপাত একটি ফেসবুক আইডির কয়েকটি বিতর্কিত পোস্টকে ঘিরে। পোস্টগুলোর স্ক্রিনশট প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যায় একাধিক পোস্টে মুসলমান নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করা হয়েছে। পোস্টগুলো ‘Ronjon Roy Lrm’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া হয়েছিল। ঐ আইডির প্রোফাইল ফটো এবং কভার ফটোতে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত রঞ্জনের ছবি দেখা গিয়েছে। তবে রঞ্জনের পরিবারের দাবি, এটি রঞ্জনের প্রকৃত আইডি নয়। তার ছবি ও নাম ব্যবহার করে ভুয়া একটি আইডি খুলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে যার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই।

পরিবারের অভিযোগ, এটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। ভুয়া আইডির মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উস্কানি ছড়ানো হচ্ছে, যাতে করে তাদের গ্রাম থেকে বিতাড়িত করা যায়। রঞ্জনের ফেসবুক আইডি সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে ওই বিতর্কিত ফেসবুক আইডিটি থেকে ১ম ধর্মীয় কটুক্তিমূলক বিতর্কিত পোস্ট করা হয় ২০ জুলাই। এরপর পরবর্তি বিতর্কিত পোস্ট করা হয় ২১ জুলাই। এরপর ২৫ জুলাই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি বিতর্কিত পোস্ট করা হয়। এর আগে ১৫ জুলাই ‘Ronjon Roy Lrm’ নামের দুটি আইডি থেকে একটি গ্রুপ ছবি ভিন্ন ক্যাপশনে পোস্ট হতে দেখা যায়। প্রাইভেসি ‘অনলি ফ্রেন্ড’ করে ৫৩ জনকে ট্যাগ করা তার নামের একটি আইডির ক্যাপশনে লেখা ‘আমার বউ….(তিনটি লাভ চিহ্ন)’। প্রাইভেসি ‘পাবলিক’ করে অপর এক আইডির একই ছবির ক্যাপশনে লেখা ‘আমার বউ আর আমার জান (Ex Girlfriends) ….(তিনটি লাভ চিহ্ন)’।

এই পোস্টে রঞ্জনের ডান পাশে থাকা নারীর পোষাক, মুখমণ্ডল ও গলার অলঙ্কারের সাথে একই আরেক আইডিতে পোস্ট হওয়া নারীর মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। মিল না খুঁজে পাওয়া নারীটিকে চেনেননা এবং কখনও দেখেননি বলে জানিয়েছে রঞ্জনের পরিবার। ১ম হামলা(শনিবার) শনিবার(২৬ জুলাই) অসমর্থিত সূত্র থেকে ঐ বিতর্কিত পোস্টটিকে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।

সন্ধ্যার পর উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। রঞ্জনের দিদিমা সন্ধ্যা রানী বলেন, আমাদের ওয়ার্ডের মেম্বার(ইউপি সদস্য)ভাই ফোন করে বললো নবীজির নামে কি কি খারাপ কথা ফেসবুকে লিখছে। এই সংবাদ শোনার পর আমার স্বামী কেশব চন্দ্র রায়, ভাজিতা ২ জন রঞ্জনকে নিয়ে শনিবার রাত ৮ টার দিকে গঙ্গাচড়া থানায় যায়। তার কিছুক্ষণ পর (রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা) কয়েকজন লোক এসে রঞ্জনের বাড়িতে না গিয়ে পাশেই আমার বাড়িতে এসে ১ম হামলা করে। তখন তারা বাড়ির দরজা, বাথরুম ভেঙ্গে দিয়ে যায়। তার আধাঘণ্টা পর আরেকদল আসে। আবার আমার বাড়িতে ঘরে ঢুকে ভাংচুর করে। তারা সম্ভবত রঞ্জনের বাড়ি ভেবে আমার বাড়িতেই দুইবার হামলা করে।

২য় হামলা(রবিবার) শনিবার রাতেই অভিযুক্ত রঞ্জন রায়কে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। হামলার পর ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়ন করা হয়। দিনের আলো ফোটার পর খবরটি জানাজানি হলে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। এর মাঝেই গ্রামবাসীর কাছে খবর আসে পাশের জেলা নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়ন থেকে প্রায় ২ হাজার লোকের বিক্ষোভ মিছিল আলদাদপুর গ্রামের দিকে এগুচ্ছে। খবর পেয়ে গ্রামের প্রবেশপথে অবস্থান নেয় পুলিশ।শনিবার রাতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি থাকলেও বেলা ১১ টার দিকে তারা গ্রাম ছেড়ে চলে যায় বলে জানিয়েছেন একাধীক গ্রামের বাসিন্দা।

আলদাদপুর গ্রামের বাসিন্দা কালী রঞ্জন রায় জানান, রবিবার(২৭ জুলাই) সকালে কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের ফুলের ঘাট, উত্তর সিঙ্গের গাড়ি, পাড়ের হাট গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামে মাইকিং করে নবীজির কটুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেয়ার আহবান জানানো হয়। দুপুর ২ টার দিকে মাগুড়া ইউনিয়নের বাংলা বাজারে লোকজন জড়ো হতে থাকে। বিকেল ৩টার দিকে আমাদের গ্রামের আলদাদপুর খিললঞ্জ বাজারে আসলে পুলিশ তাদের সামনে আগাতে বাধা দেয়। পুলিশের সাথে প্রায় ১ ঘণ্টার মতো হট্টগোল করার পর তারা রঞ্জনের বাড়ির খুব কাছে আরএফএল এর কারখানার সামনে চলে আসে। পুলিশের সংখ্যা ছিল মিছিল নিয়ে আসা লোকদের তুলনায় খুবই কম। পুলিশ বাধা দিলে তার একজন পুলিশের উপর হামলা করে আহত করে। এর মধ্যেই রঞ্জনের পাড়ায় গিয়ে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট শুরু হয়।

পরে ৫ টার দিকে সেনাবাহিনী আবার আসলে সবার চলে যায়। বাড়ি ভাংচুরের কিছুক্ষণ আগেও নিজের বাড়িতে ছিলেন পুতুল রানী(৫০)। সেই সময়ের পরিস্থিতির বর্ণণা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বাজারে যখন মিছিল হয়, তখন কিছু লোক এসে আমাদের বাড়ি থেকে দূরে থাকতে বলে। তারা বলছিল ‘আপনারা বয়স্ক, বাচ্চা, মেয়ে মানুষ নিয়ে একটি নিরাপদে থাকেন। বাজারে অনেক মানুষ।আপনারা থাকলে ঝামেলা হতে পারে। আপনারা চলে যান, বাড়ি আমরাই দেখে রাখতেছি।‘ আমরা তাদের কথা শুনে দূরে গিয়ে থাকি। সবার বাড়িতে পুরুষ মানুষ ছিল না। তাই আমরা বুঝতে পারছিলাম না কি করবো।‘ কাঁদতে কাঁদতে পুতুল রানী আরও বলেন, দের ঘণ্টাপর মিছিলের শব্দ থেমে গেলে আমরা বাড়ি ফিরে আসি। এসে দেখি কিছু বাকি নাই বাড়ির। যা আছে তা ব্যবহারের মতো না। কারও কারও গরু ছাগল ঘর থেকে বের করে নিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার আকস্মিকতায় তার মা অসুস্থ বলে জানা গেছে। ছেলের আইনি সহয়তার জন্য তার বাবা ছুটছেন। তার বাড়ির পাকা অবকাঠামো ছাড়া টিভি, ফ্রিজসহ কোন আসবাবপত্র স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যায়নি। প্রতিটি ঘরের মেঝে যেন একটি করে ধ্বংস্তুপ।

প্রমদ মোহন্তের স্ত্রী বিন্দু রানী মোহন্ত জানান, তাদের পুরো বাড়ি লুট করে তছনছ করা হয়েছে। রবীন্দ্র নাথ রায়ের বাড়িতে গরু তিনটি লুট করা হয়, ধান-চাল এবং সোনা নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুজা মণ্ডপ ভাঙচুর করা হয়। জয়ন্ত কুমার মোহন্তের বাড়ি থেকে আসবাবপত্র ভাঙচুরসহ ছাগল লুটের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও কেশব চন্দ্র রায়, বিনয় চন্দ্র মোহন্ত, জয়চাঁদ, অতুল চন্দ্র রায়, কমলা কান্ত, রতন চন্দ্র, ধরনী কান্ত, লিটন চন্দ্র মোহন্ত, সুকারূ মোহন্ত, মনোরঞ্জন শীল ও জয়ন্ত কুমার মোহন্তের বাড়িঘর ও মালামাল আক্রমণ ও লুটপাটের শিকার হয়। আংশিকভাবে হামলা এবং লুটপাটের শিকার হয়েছেন অভিনাশ রায়, উপেন্দ্রনাথ মোহন্ত, হরিকান্ত রায়, সুধীর চন্দ্র মোহন্ত এবং প্রমদ চন্দ্র মোহন্ত। সর্বশেষ পরিস্থিতি মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে আলদাদপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত সতঘরগুলোর ভাঙা টিনের বেড়া খোলা হচ্ছে। সেগুলোতে নতুন টিন লাগানো হচ্ছে। সোমবার রাত ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, পুলিশ সুপার আবু সাইম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘরে মেরামতের জন্য আজ সকালে টিন ও কাঠ পাঠিয়েছেন। সকাল থেকে ৩০ জন কাঠমিস্ত্রি মেরামতের কাজ করছেন। গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও ) মাহমুদুল হাসান মৃধা আজ সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, ঘরগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। ৩টি ছাড়া সব কটি পরিবার ফিরে এসেছে। প্রশাসন থেকে টিন, কাঠ, নলকূপ, চুলাসহ যার যা প্রয়োজন তা নিয়ে সহায়তা করা হবে। এখনো আতঙ্ক কাটেনি তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। হিরনবালা রানী নামের এক নারী বলেন, ‘কাপড়চোপড়, জিনিসপত্র সব নিয়ে গেছে, কিচ্ছু নেই ঘরোত। এল্যা ঘরের বেড়া ভালো করে দিলে কী হবে?’ আজো বালা নামের আরেকজন বলেন, ‘কাজ করি ভাত খাই। আতঙ্কে কাজ করবার পাই নাই। নিন (ঘুম) পাড়বার পাই না। দুটা মেয়ে বড় হয়েছে। ওদের নিয়ে ভয়ে থাকি।’ আলদাদপুর দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় ও আলদাদপুর নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাশেই এ হামলার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই দুই বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা।

ওই ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয় শিক্ষার্থী আসছে না। আলদাদপুর দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ অধিকারী বলেন, এ রকম পরিস্থিতিতে বাচ্চারা ভয় পায়। তাঁরা স্কুলে আসছে না। আলদাতপুর নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কালী রঞ্জন রায় বলেন, প্রতিষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। গতকাল সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিক হলে পুনরায় একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে। আবারও মিছিল করার চেষ্টা পুলিশ ও আলদাদপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে আলদাদপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা চেকপোস্ট এলাকা থেকে একটি মিছিল নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল এমরান বলেন, ‘গতকাল রাত ৯টা–১০টার দিকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের মাগুরায় কিছু লোকজন জমায়েত হয়েছিলেন, এ তথ্য আমরা পেয়েছিলাম। তাঁরা ওখানে বিক্ষোভ করে চলে গেছেন। প্রশাসন যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর আছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

’ গঙ্গাচড়া উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক তপন কুমার বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রশাসন যা করছে, আপাতত আমরা তাঁদের ওপর আস্থা রাখছি। মামলা হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১২০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার(২৯ জুন) সন্ধ্যায় একজন ভুক্তভোগী গঙ্গাচড়া থানায় মামলা করেন। রাত ৯টার দিকে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আল এমরান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গঙ্গাচড়ায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় একজন মামলা করেছেন। এতে অজ্ঞাতনামা ১২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বাদীর নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এর আগে ২৭ জুলাই (রবিবার) অভিযুক্ত কিশোর সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের আইনে মামলা হয়। ওইদিনই আদালত তাকে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়