বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কিশোরগঞ্জের মানুষ রাষ্ট্রপতি পেলেও শিক্ষা-স্বাস্থ্যের অধিকার পায়নি: নাহিদ ইসলাম

সংবাদের আলো ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, কিশোরগঞ্জের মানুষ রাষ্ট্রপতি পেয়েছে, কিন্তু তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার পায়নি। প্রিয় সংগ্রামী কিশোরগঞ্জবাসী, আপনাদের এই ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশকে শেখ হাসিনার কাছে তুলে দিয়েছিল। মানুষের মানবাধিকার, মানুষের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। আপনারা এই কিশোরগঞ্জ থেকে সেই ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

শনিবার (২৬ জুলাই) রাত ৯টায় জেলা শহরের পুরান থানা (স্বাধীনতা চত্বর) এলাকায় পদযাত্রা-পরবর্তী এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কিশোরগঞ্জে হাওরাঞ্চল তো বটেই, কিশোরগঞ্জ সদরেও এমন স্কুল আছে যেখানে শিক্ষক নেই, হাসপাতাল আছে কিন্তু ডাক্তার নেই। যুবসমাজ কর্মহীন, রাস্তার জন্য হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ হলেও বাস্তবে রাস্তা নেই। আমরা চাই, এমন কিশোরগঞ্জ গড়তে যেখানে প্রতিটি শিশু স্কুলে যেতে পারবে, প্রতিটি মানুষ সহজে স্বাস্থ্যসেবা পাবে, তরুণরা কর্মসংস্থান পাবে আর মানুষ পাবে চলাচলের সুযোগ-সুবিধা।’

নতুন সংবিধানের দাবি তুলে ধরে এনসিপি নেতা বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সংবিধানসহ সরকারে যে পুরনো ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা ছিল, তার সব কিছু পাল্টে রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। কিন্তু আফসোসের বিষয়, আমরা নতুন সরকার পেলেও নতুন দেশ এখনো পাইনি। জাতীয় নাগরিক পার্টি নতুন দেশ না গড়া পর্যন্ত দেশের মানুষ ও গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। জাতীয় নাগরিক পার্টি দেশের ৫৪ বছরের মাফিয়া তান্ত্রিক, লুটেরা ও দুর্নীতিপরায়ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাবে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সামনের সারির নেতা নাহিদ বলেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, যেখানে প্রত্যেকটা মানুষের কাছে নাগরিক অধিকার পৌঁছাবে। তাই বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধানের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি। আগামী ৩ অগাস্ট আমরা শহীদ মিনারে জড়ো হচ্ছি জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ আদায়ের লক্ষ্যে। ইনশাআল্লাহ, শহীদ মিনার থেকে আমাদের দাবি আদায় করে নেব।’

আওয়ামী লীগের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের দোসররা এখনো বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে আছে। এই কিশোরগঞ্জের অনেক মামলার আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমাদের শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ভাই, মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের এখনো আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হুমকি দিচ্ছে। আমরা চাই, এসব সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। যারা এসব সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

পথসভা ও পদযাত্রা কর্মসূচিতে এনসিপির অন্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনীম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম সদস্যসচিব আহনাফ সাঈদ খান।

কর্মসূচিতে যোগ দিতে এদিন বিকাল থেকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে এনসিপির নেতাকর্মীরা পুরান থানা এলাকায় জড়ো হন। তাদের হাতে ব্যানার ও ফেস্টুন ছিল। পথসভার আগে রাত ৮টার দিকে জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে পদযাত্রা শুরু করেন নেতাকর্মীরা।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়