সোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কামারখন্দে যুবককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

  সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: স্কুলের নিয়োগ সংক্রান্ত ‍বিষয় নিয়ে আদালতে দায়ের করা একটি মামলা প্রত্যাহার না করায় ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চরনূরনগর গ্রামের রুবেল হোসেন নামে এক যুবককে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানেরা অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের জুয়েল রানা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী রুবেল হোসেন(৩৪)উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের চরনূরনগর গ্রামের মৃত আবু বক্কারের পুত্র।তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কামারখন্দ থানার এস আই বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে বাদির সাথে যোগসাজসে জিডির মামলার ঘটনা সরজমিনে তদন্ত না করে ও স্বাক্ষীদের সাথে কথা না বলেই বাদির পক্ষে আদালতে মনগড়াভাবে প্রতিবেদন জমা দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

সরজমিনে বৃহস্পতিবার(১৭ জুলাই)ভুক্তভোগী গ্রামের বাড়ি চরনূরনগর গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে বিষয়টি জানা যায়।স্থানীয়রা জানান,চরনূরনগর গ্রামের আব্দুল মজিদ সেখের পুত্র জুয়েল রানার সাথে পূর্বে থেকে ভুক্তভোগী রুবেল রানার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ চলে আসছিলতাদের কয়েকটি বিষয় নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।তবে ২০২৫ সালে ৬ এপ্লিল খেয়া ঘাটের বালুর পয়েন্টের কাছে মারপিটের ভয়ভীতি,হুমকী প্রদর্শনসহ যে ঘটনায় মামলা হয়েছে তা সঠিক নয়।

কারণ সেই দিন এ রকম কোন ঘটনাই খেয়া ঘাটে ঘটে নাই।এই মামলার যাদের সাক্ষী বানানো হয়েছে তাদের অধিকাংশই এ ঘটনা সর্ম্পকে কিছুই জানেন না। এমনকি এই মামলার ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা বা পুলিশ কখনোই সরজমিনে এসে তদন্ত করে যাননি।পুলিশ তদন্ত ছাড়াই আদালতে মনগড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন সেটা খুব দুঃখজনক বিষয় বলে জানান স্থানীয়রা।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,২০২৫ সালের ৬ এপ্লিল সকাল দশটার দিকে মামলার বাদি জুয়েল রানা বাড়ি থেকে বের হয়ে চরনূরনগর খেয়া ঘাটের পার্শ্বে বালুর পয়েন্টে কাছে গেলে আসামী রুবেল রানা তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পূর্বের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য  বলে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারমুখি আচারণ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পরবর্তীতে দুই মাস অতিবাহিত হওয়ার পরে জুয়েল রানা ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে গত ১৪ জুন ২০২৫ কামারখন্দ থানায় উপস্থিত হয়ে একটি জিডি করেন।যাহার জিডি নং-৪৮৫।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কামারখন্দ থানার এস আই বাবুল আক্তার ২০২৫ সালের ২৫ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।গত ৯ জুলাই সেই মামলা হাজিরা দিতে রুবেল হোসেন আদালতে আসলে তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ মামলার সাক্ষী আব্দুস সমাদ বলেন,আমাকে এখানে সাক্ষী বানানো হয়েছে অথচ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।পুলিশ কখনো আসেনি ও আমার কাছে কিছুই শোনেনি ও জিঞ্জাসাবাদও করেননি।   আরেক সাক্ষী লিটন আলী শেখ বলেন,আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না কিন্তু আমি এলাকার লোকদের কাছে শুনছি।

আমি দেখিনি, আমি জানিও না।আমাকে যদি মিথ্যা সাক্ষী বানায় আর পুলিশ যদি ঘুষ খায় এ দোষ কি আমার হবে।    চরনূরনগর গ্রামের মৃত আব্দুল রহমান মন্ডলের পুত্র শহিদুল ইসলাম বলেন,চরনূরনগর খেয়া ঘাটে কোন মারামারি কথা কাটাকাটি গন্ডগোল কিছুই হয়নি।অথচ একজন নীরহ ছেলেকে জেল খাটতে হচ্ছে এটা খুব দূঃখের বিষয়মামলার পরে তো পুলিশ তদন্ত করে যায় ঘটনা সত্যে মিথ্যা যাচাই করে অথচ কোন পুলিশই এখনো আসেনি।

অথচ তদন্ত ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।   একই গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মৃত শাহেদ আলীর পুত্র মোমিন মন্ডল বলেন, যে মামলায় রুবেলকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।এ ধরণের ঘটনা এখানে ঘটেনি।তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।এটা এলাকার অনেকেই জানে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রুবেল হোসেনের বড় ভাই হুমায়ন কবির বলেন, আমার ভাই রুবেল চরনূরনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী পদে চাকরি নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলো কিন্তু সেই সময় আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটে ও তদবিরে অবৈধভাবে জুয়েলের ভাগ্নে সম্রাট আল মামুনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ বিষয় নিয়ে রুবেল ২০১৯ সালে আদালতে একটি মামলা করেন যা বর্তমানে আদালতে চলমান আছে।এই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য জুয়েল রানা রুবেলকে প্রায় সময় চাপ ও হুমকি দিতো কিন্তু রুবেল মামলা না তোলায় তাকে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।সে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কামারখন্দ থানার এস আই বাবুল আক্তার জিডির মামলা তদন্ত না করেই স্বাক্ষীদের সাথে কথা না বলেই; জুয়েলের সাথে যোগসাজসে আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন আমি তার বিচার চাই।

  মামলা বাদী জুয়েল রানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,আমি এ বিষয়ে এখন কিছুই বলতে পারবো না।আমি ব্যস্ত আছি,পরে কথা হবে বলে, ফোন কেটে দেন তিনি।

এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই)বাবুল আক্তার জানান,এই মামলায় তো জেলে যাওয়ার কথা নয়।কিভাবে হলো এটা? বুঝতে পারছি না।আমি রাজশাহীতে ট্রেনিং আছি।এ বিষয়ে পরে কথা হবে। এ ব্যাপারে জানতে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)আব্দুল লতিফকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়