রবিবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

প্রকৌশলীকে লাথি মেরে বের করে দেয়ার হুমকি জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

সংবাদের আলো ডেস্ক: কুমিল্লার মুরাদনগরে উপজেলা প্রকৌশলীকে লাথি মেরে অফিস থেকে বের করে দেয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মাহবুব আলম মুন্সী মুরাদনগর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেলে মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের প্রকৌশলীর অফিস কক্ষের ভিতরে এ ঘটনা ঘটে, যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ তার অফিসের চেয়ারে বসে আছেন। তার অফিসের টেবিলের অপরপ্রান্ত থেকে মুরাদনগর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুব আলম মুন্সী দাঁড়িয়ে থেকে উপজেলা প্রকৌশলীকে বলছেন, ‘লাথি মেরে তোকে বের করে দেব।’ যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুব আলম মুন্সির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের বাসকাইট থেকে প্রান্তি বাজার পর্যন্ত সড়কটির খুবই বেহাল অবস্থা। সেই রাস্তাটির সংস্কারের একটি আবেদন নিয়ে আমি সহ স্থানীয় কয়েকজন মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে যাই। তখন তিনি আবেদনটি দেখে গড়িমসি শুরু করেন।

তিনি বলেন, ‘এটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব। রাস্তাটির সংস্কার খুবই জরুরি এই বিষয়টি উনাকে বুঝাতে গেলে উনি আমার সাথে রেগে যান। তিনি বলেন, “যদি রাস্তা ভেঙে পানি জমে থাকে তাহলে আপনারা গিয়ে বালতি দিয়ে সে পানি পরিষ্কার করেন।” উনি উত্তেজিত হয়ে গেলে, তখন আমিও উত্তেজিত হয়ে যাই।’

পরে আমাদের সিনিয়ররা এসে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে বসে ঘটনাটির সুরাহা করে নেয়। শর্ত অনুযায়ী, আমার কাছে কিছু ভিডিও ছিল, তা আমি ডিলিট করে দেই।

আসলে ওই ঘটনার সময় আমাদের প্রায় ১০ মিনিট তর্ক বিতর্ক হয়েছে। দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, মাত্র ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর আ ন ম ইলিয়াস জানান, ‘যে ঘটনাটি হয়েছে সেটি দুঃখজনক। এক পক্ষ থেকে তো আসলে কোন ঘটনা তৈরি হয় না। যাইহোক, বিষয়টি আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে বসে উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে সুরাহা করেছি। এই ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। এ ধরণের ঘটনা না হওয়াটাই ভালো।’

তবে, এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণর সাথে মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান জানান, ‘রাস্তা সংস্কারের আবেদনটি নিয়ে প্রথমে আমার কাছে এসেছিল। আমি তখন তাদেরকে উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে পাঠিয়েছি। ওখানে গিয়ে তারা আসলে কি করেছে আমি তা জানি না। পরে আমি তাদের নেতৃত্বস্থানীয় লোকদেরকে ডেকেছিলাম। পরে তারা উপস্থিত হয়ে এ বিষয়টির উপর দুঃখ প্রকাশ করেছে।’

ক্ষমতার অপব্যবহার করে চাইলেই কি কেউ কোন কর্মকর্তাকে হুমকি দিতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, ‘সাধারণ হোক কিংবা অসাধারণ, ব্যক্তি কেউই চাইলেই কোন কর্মকর্তার অফিসে ঢুকে এ ধরনের আচরণ করতে পারেনা।’ সূত্র সময়ের কণ্ঠস্বর

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়