শাপলা মার্কা নাকি আমাদেরকে দেওয়া হবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ
সংবাদের আলো ডেস্ক: আমাদের নির্বাচন কমিশন বলে দিয়েছে শাপলা মার্কা নাকি আমাদের দেওয়া হবে না। আপনারা জেনে থাকবেন, তারা মিটিং করেছে আজকে, কিন্তু মিটিং করার আগে গতকালই ফলাফল জানিয়ে দিয়েছে, বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)-র দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘ভোটের আগের ফলাফলের মতো আমাদের নির্বাচন কমিশন এখন মিটিংয়ের আগেই ফলাফল জানিয়ে দেয়। আমরা ধিক্কার জানাই এই নির্বাচন কমিশনের দ্বিচারিতাকে। তারা (নির্বাচন কমিশন) মিটিং করেছে আজকে, কীভাবে গতকালই ফলাফল জানিয়ে দেয় যে শাপলা মার্কাকে তারা দেবে না।’
‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’র দশম দিনে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় নড়াইল জেলা শহরের পুরাতন বাস টার্মিনাল চত্বরের মুক্তমঞ্চে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)-র সভায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের একটা নির্বাচন কমিশন আছে। আগেও নির্বাচন কমিশন ছিল, হুদা নির্বাচন কমিশন, রকিব নির্বাচন কমিশন। আমাদের নির্বাচন কমিশনাররা দিনের ভোট রাতে করে দিয়েছে। তারা পুলিশ সেনাবাহিনীকে সাক্ষী রেখে রাতের বেলায় ভোট কেটে রেখেছে। এমনও শুনেছি, কবর থেকে মরা মানুষ এসে ভোট দিয়ে গেছে। ২০ বছর আগে মারা যাওয়া দাদা-দাদি ও নাকি ভোটার লাইনে এসে ভোট দিয়ে গেছে। এগুলো ছিল হুদা কমিশনের কাজ। এই হুদা কমিশনের নুরুল হুদার পরিণতি কিন্তু আজকে জাতি দেখছে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশকে বিশ্বে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে আমাদের প্রত্যাশা, দেশটাকে আমরা নতুন করে গড়বো। আমরা এমন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যে বাংলাদেশে কোন বৈষম্য থাকবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের একটি ইনসাফ ও সমতা ভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখায়। বৈষম্যহীন, ইনসাফের ভিত্তিতে, সম্প্রীতির ভিত্তিতে দেশটাকে আমরা গড়ে তুলবো। মেধ্যা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাই চাকরি পাবে, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা লাভ করবে এবং চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটা দেশ হবে। গণহত্যার বিচার, নতুন সংবিধান ও বিচার ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার চাই আমরা। কিন্তু অভ্যুত্থানের পরে, ফ্যাসিস্ট হটানোর পরে দেশে আবার সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি ও নানা ধরনের চক্রান্ত শুরু হয়েছে।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা সেই তরুণেরা আপনাদের সামনে এসেছি নতুন করে বাংলাদেশ গড়ার কাজে। যারা ফ্যাসিস্টকে উৎখাত করতে জীবনবাজি রেখেছিলাম। বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের পূণ্যভূমি চিত্রাপাড়ের নড়াইলে যে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল তা বিগত দিনে হয়নি। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে আমরা অবহেলিত নড়াইলের উন্নয়ন করতে চাই। আমাদের আশা ছিল গণঅভ্যুত্থানের পর দলমত নির্বিশেষে নতুন করে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে। দেশে আঞ্চলিক বৈষম্য রেখে কোন কাজ করা যাবে না, উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় উন্নয়ন করতে হবে। দেশকে পুনর্গঠনের ইচ্ছা থাকলেও গত এক বছরে সেটা সম্ভবপর হয়নি। আমরা আস্থা রাখতে পারিনি। এ কারণেই আমি রাস্তায় নেমেছি। আমরা কোন লোভ করিনি। ৫৪ বছরের বাংলাদেশ দেখেছি, ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট দেখেছি।
নতুন করে স্বৈরশাসনের আর যেন জন্ম না নেয় এদেশে। আপনাদের সুযোগ এসেছে বৈষম্যহীন দেশ গড়ার। রাজপথ থেকে গড়ে উঠা তরুণদের একটি দল এনসিপি। আমাদের দল করার ইচ্ছা ছিল না। আমরা চাই, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে। দেশে তরুণদের নিয়ে বিকল্প তৈরি হয়েছে। আপনারা যারা আলেম সমাজ, মুরুব্বিরা আছেন, মা-বোনেরা আছেন, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। আপনাদের সামনে সুযোগ এসেছে নতুন শক্তির উত্থান ঘটাতে। নতুন করে যদি কোনও স্বৈরাচার, চাঁদাবাজ, ফ্যাসিস্ট তৈরি হয়, তার বিরুদ্ধেও আমাদের কথা বলতে হবে। তার বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই করতে হবে।’
এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘ভোটের আগে টাকার কাছে ব্যক্তিত্ব বিক্রি করে নিজের, দেশ ও জাতির ক্ষতি করবেন না। আমরা যেন কোন ব্যক্তির দাস না হয়ে যাই। স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে আমরা দেশের সব জেলায় যাব, জনগণের মতামত শুনে একটি গণতান্ত্রিক ইশতেহার তৈরি করবো।’
এ সময় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দলটির এনসিপি জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক লে. কর্নেল (অব.) এম শাব্বির আহমেদ, এনসিপি জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক মো: শরিফুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জাতীয় যুবশক্তি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মাহমুদা সুলতানা রিমি প্রমুখ।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।