
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে গরুর ভাইরাসজনিত রোগ ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি)। দিন দিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত গবাদিপশুর সংখ্যা।
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উৎকণ্ঠা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ীতে বর্তমানে প্রায় ৬৭ হাজার গরু রয়েছে। কিন্তু আক্রান্ত ও মৃত গরুর নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান এখনো সংগ্রহ করতে পারেনি দপ্তরটি। গড়ে প্রতিদিন ৪-৫টি গরু এলএসডিতে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে আসছে চিকিৎসার জন্য।
চন্দ্রখানা গ্রামের কৃষাণী হাছনা বেগম বলেন, “আমার একটি গরু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে এলার্জি ভেবেছিলাম। পরে মুখে ঘা, পা ফুলে গেলে স্থানীয় একজন ডাক্তার বলেন এটা ল্যাম্পি।
চিকিৎসা করাতে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হলেও শেষ পর্যন্ত গরুটি বাঁচানো যায়নি।” স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি পর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে কবিরাজ ও হাতুড়ে ডাক্তারদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। ফলে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় গবাদিপশুর মৃত্যুহার বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা, মাছি ও অন্যান্য রক্তচোষা কীটপতঙ্গের মাধ্যমে এই ভাইরাসটি ছড়ায়। এলএসডি রোগ একবার ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান কনক বলেন, “খামারিরা অনেক সময় দেরিতে চিকিৎসা করান বা ভুল চিকিৎসা করান, ফলে রোগ মারাত্মক রূপ নেয়। আমরা মাঠে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।
” তিনি আরও জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে প্রাণিসম্পদ টিম সক্রিয় রয়েছে এবং যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত অফিসে যোগাযোগ করার জন্য খামারি ও কৃষকদের অনুরোধ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত না হওয়ায় অনেকেই প্রাণিসম্পদ বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
ফলে প্রাণিসম্পদ বিভাগকে আরও তথ্যভিত্তিক ও জরিপনির্ভর কার্যক্রম চালানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.